ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ঘটনাপ্রবাহ ঘুরে এখন এই যুদ্ধ যেন হয়ে উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাঁধের ভার।
শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। পরে সে সময়সীমা বাড়িয়ে ১০০ দিন করেন। এখন সেই সময়ও প্রায় শেষ। আর ট্রাম্প পড়েছেন এক কঠিন প্রশ্নের মুখে। তিনি কি আসলেই এই যুদ্ধ থামাতে চান, নাকি শুধু আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে চান?
যুদ্ধ শুরুর দিকে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সখ্যতা গড়তে চেয়েছিলেন। আবার প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেছিলেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাদেরই আরো খরচ করতে হবে। এতে বাজেট বাড়লেও মার্কিন কূটনীতিতে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের আরো গভীরে টেনে নিয়েছে। তিনি বুঝতে শুরু করেছেন, পুতিন শান্তি চান না। ইউক্রেনের অস্ত্র দরকার, তবে সহায়তা দিতে গিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকায় যেন অনাগ্রহই স্পষ্ট। আবার রুশ নেতাদের পারমাণবিক হুমকির জবাবে ট্রাম্প আমেরিকার পারমাণবিক ডুবোজাহাজ রুশ সীমান্তে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।
এই সপ্তাহেই ট্রাম্পের দেয়া ১০০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর দ্বিতীয় ধাপে নিষেধাজ্ঞা দেবেন কিনা। তিনি বলেছেন, ভারত রুশ তেল কিনে লাভ করছে। আর এতে কার কি ক্ষতি হচ্ছে তা নিয়ে তিনি ভাবছেন না। তবে এখনো ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ নেননি।
এদিকে, ভারত এখনো রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেনি। আবার চীনও রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ থামাতে হলে ট্রাম্পকে কৌশলগতভাবে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে আবারো তিনি ‘সবসময় পিছু হটেন’—এই তকমা পেতে পারেন।
হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ মস্কো সফরে যাচ্ছেন। কোনো সমঝোতা হলে ট্রাম্প হয়তো পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তবে তাতেও দায় এড়ানো যাবে না। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাস করা হয়, একবার যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংঘাতে জড়ালে সেই দায় তাদেরই নিতে হবে।
ট্রাম্প বহুবার বলেছেন, তিনি সব যুদ্ধ থামাতে চান। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। যুদ্ধ থামাতে শুধু মনোভাব নয়। প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, কঠিন সিদ্ধান্ত, কৌশল ও সাহস। বারাক ওবামা যেমন ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করতে গিয়ে নিজেই জড়িয়ে পড়েছিলেন, তেমনি ট্রাম্পও এখন ইউক্রেন যুদ্ধের গভীরে ঢুকে পড়েছেন। এই যুদ্ধ এখন শুধু ইউক্রেনের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ট্রাম্পের রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব, ইউরোপের নিরাপত্তা ও চীনের আগ্রাসী কৌশলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। চীন চায় রাশিয়া জিতুক। ইউরোপ চায় রাশিয়াকে রুখে দেয়া হোক। কিন্তু ট্রাম্প কী চান? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর এর উত্তর নির্ধারিত হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।
—সিএনএন অবলম্বনে