রাজধানী বামাকোর বাইরে প্রধান সেনা ঘাঁটির কাছে নিজ বাসভবনে গত শনিবার নিহত হয়েছেন মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা। আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালে (আরএফআই) ও দুই স্বজন। খবর রয়টার্স।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের প্রতিহত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের শহর কাতিতে শনিবারের ওই অভিযান ছিল বড় ধরনের সমন্বিত হামলার অংশ। আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিনের (জেএনআইএম) সঙ্গে যোগ দেয় তুয়ারেগ গোষ্টীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা। বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি দেশটিতে অন্যতম বড় সমন্বিত আক্রমণ।
এদিকে সাহেল অঞ্চলে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, মালির বিভিন্ন স্থানে হামলার খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ মহাসচিব এবং এসব সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
মালির বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন অসিমি গোইতা। ২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন তিনি। কামারার কৌশল অনুসারে তখন থেকে দেশটি পশ্চিমা সামরিক সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বামাকো বিমানবন্দরের কাছে একটি প্রশিক্ষণ স্কুলে হামলা চালিয়ে প্রায় ৭০ জনকে হত্যা করেছিল জিএনআইএম। সম্প্রতি জ্বালানি অবরোধ সৃষ্টি করে রাজধানীতে বিদ্যুৎ ও সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে মালি সরকার। তারা নতুন সম্পর্ককে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের কাজে লাগাতে চাইছে।
মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ ও বিদেশী শক্তিগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।