জাতিসংঘে মামদানি, কাতার-তুরস্কের সমালোচনা নেতানিয়াহুর

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে আক্রমণ করেন। মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেছিলেন। পশ্চিম ইউরোপের নেতাদেরও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন, তারা ‘ইহুদিবিদ্বেষী জনতার’ কাছে নতি স্বীকার করেছেন

জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উঠতেই গতকাল অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে চলে যান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এসময় বক্তৃতায় তাদের ‘কাপুরুষ’ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং কাতার, তুরস্ক, পশ্চিম ইউরোপের নেতাদের সমালোচনা করেন তিনি। এর মধ্যে বিশেষ করে মামদানির প্রতি ছিলেন আক্রমণাত্মক।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে আক্রমণ করেন। মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেছিলেন। পশ্চিম ইউরোপের নেতাদেরও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন, তারা ‘ইহুদিবিদ্বেষী জনতার’ কাছে নতি স্বীকার করেছেন।

পাশাপাশি কাতার ও তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েল সম্পর্কে মিথ্যা ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।

নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনারা আমাকে এখানে আসা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। চেষ্টা করেছিলেন আমাকে নীরব করার। কিন্তু আপনারা আমাকে নীরব করতে পারবেন না। আপনারা সত্যকে নীরব করতে পারবেন না।’

মামদানি নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন শহর নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতার করার ব্যবস্থা করবেন।

পরে অবশ্য বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার আইনি ক্ষমতা তার নেই। চলতি সপ্তাহেও নেতানিয়াহুকে ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন মামদানি।

জানুয়ারিতে মামদানি মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর নিউইয়র্কে প্রথম সফরে এসে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখানে একটি সহজ সত্য হলো— ইসরায়েল গণহত্যা করেনি। ইসরায়েল গণহত্যা ঠেকিয়েছে।’

মামদানি হামাসের যোদ্ধাদের সমর্থন করেন বলেও অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু। তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার দেশ এবং আমাদের সাহসী সেনাদের নিয়ে যারা এসব মিথ্যা ছড়াচ্ছেন, তারা এই হলে থাকুন বা নিউইয়র্কের ইহুদিবিদ্বেষী মেয়রের দপ্তরে থাকুন—আমি তাদের বলছি, লজ্জা হওয়া উচিত!’

এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ‘যেমনটা তিনি বারবার করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর তার গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন মিথ্যা পুনরাবৃত্তি করেছেন। কিন্তু কোনো মিথ্যাই এই সত্য বদলাতে পারবে না যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তিনি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।’

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জনমত ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে—নেতানিয়াহুর এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক্সে বলেন, দোহার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর বারবার আক্রমণের উদ্দেশ্য হলো মাটিতে নেয়া নীতির দায় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেয়া।

আরও