মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত একদিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, দুই দেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সহায়ক হতে পারে। ফ্লোরিডার পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘অত্যন্ত জোরালো’ আলোচনা চালিয়েছেন। ট্রাম্প আরো ৫ দিন সময় উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সময়ের মধ্যে একটি ভালো সমাধান আসতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএন।
তবে তেহরান ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ দিন আগে বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ এবং আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আলোচনার খবরটি ভিত্তিহীন।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সরাসরি আলোচনা না হলেও মিসর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওমান, তুরস্ক এবং মিসরও এই উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে বলে জানা গেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংঘাতের এই আবহে মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানজুড়ে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে, ইরান হুমকি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করে, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই ইরানি নাগরিক। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন এই ৫ দিনের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।