চীনা সামরিক কুচকাওয়াজ

‘শান্তি অথবা যুদ্ধ’: পুতিন-কিমকে পাশে নিয়ে শি জিনপিংয়ের শক্তি প্রদর্শন

একটি খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে শি সৈন্যদের পরিদর্শন করেন। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, ড্রোন এবং নানা সামরিক সরঞ্জাম সারি করে সাজানো হয়। আকাশে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারে প্রদর্শিত হয় বিশাল পতাকা। ৭০ মিনিটব্যাপী এই আয়োজন ছিল প্রতীকী বার্তা ও প্রোপাগান্ডায় ভরপুর।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, মানবজাতি আজ 'শান্তি অথবা যুদ্ধ, সংলাপ অথবা সংঘাত'-এর দ্বিধাবিভক্ত পথে দাঁড়িয়ে আছে। বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে এই বার্তা দেন তিনি। খবর রয়টার্স।

কুচকাওয়াজের মঞ্চে শি'র পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে পশ্চিমা বিশ্ব যাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখতে চেয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর উপলক্ষে এই কুচকাওয়াজ আয়োজন করে চীন। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর কোনো বড় নেতা এতে যোগ দেননি। শি জিনপিং বলেন, 'চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।'

ছবি- রয়টার্স

একটি খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে শি সৈন্যদের পরিদর্শন করেন। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, ড্রোন এবং নানা সামরিক সরঞ্জাম সারি করে সাজানো হয়। আকাশে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারে প্রদর্শিত হয় বিশাল পতাকা। ৭০ মিনিটব্যাপী এই আয়োজন ছিল প্রতীকী বার্তা ও প্রোপাগান্ডায় ভরপুর।

মাও সে তুং-এর ধাঁচের পোশাক পরে শি বিদেশী নেতাদের স্বাগত জানান। আশ্চর্যজনকভাবে, দেশে প্রবল বিক্ষোভের মুখে থাকা ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টও এতে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, চীনকে জাপানের হাত থেকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল মুখ্য। ব্যঙ্গাত্মকভাবে তিনি আরো বলেন, 'আমার শুভেচ্ছা জানিও পুতিন ও কিমকে, যখন তোমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছো।' তবে তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেন, কুচকাওয়াজকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন না।

শি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে চীনের 'মহান পুনর্জাগরণের মোড়' হিসেবে তুলে ধরেন। কয়েকদিন আগেই তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করে ‘ঐক্য ও শান্তি’–কেন্দ্রিক এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্ন উপস্থাপন করেছিলেন।

ছবি-এপি

পুতিন এ সফরে চীনের সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তি সই করেছেন। অন্যদিকে কিম জং উনের জন্য এটি ছিল প্রথম বড় বহুপাক্ষিক অংশগ্রহণ। তার মেয়ে কিম জু আ-ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথমবার প্রকাশ্যে হাজির হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া–উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সম্ভাব্য চীন–উত্তর কোরিয়া জোট এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই বিশাল কুচকাওয়াজ ঘিরে বেইজিংয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে রাতের বেলা চলে মহড়া। সারা দেশে পার্টি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানো হয়েছে সম্ভাব্য অস্থিরতা প্রতিরোধে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক ওয়েন-টি সাং বলেন, 'এই অনুষ্ঠান শি জিনপিংয়ের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ, যাতে তিনি প্রমাণ করতে পারেন—সেনাবাহিনী নিরঙ্কুশভাবে তার পক্ষে রয়েছে।'

আরও