ইরান যুদ্ধের এক মাস: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী যুদ্ধে অংশ নেয়ায় নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সুয়েজ খালে পারাপার। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে এক মাসের যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠিন চাপের মুখে পড়েছেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি ও দেশে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তার সামনে রয়েছে এখন দুটি পথ। সমঝোতায় যুদ্ধ শেষ করা অথবা সংঘাত আরো বাড়ানো।
ইরান এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানি তেল দাম বাড়ায় বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের ওপর জন সমর্থন নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে, যা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন হার। যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে মার্কিন নাগরিকরা ক্ষুদ্ধ।
সামরিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কয়েক জন সেনা মোতায়েন করছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি বিষয়ে আলোচনা ব্যর্থ আলোচনা এখনো অনিশ্চিত। এ কারণ বড় ধরনের হামলার হুমকি জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা সংঘাতকে আরো বিস্তৃত করছে।
কূটনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। কারণ প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার মতো কঠিন শর্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ না থাকায় এ যুদ্ধ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও কংগ্রেসে তার দলের অবস্থানের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।
যুদ্ধের এক মাসের মাথায় ময়দানে হাজির হয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। তারা এরই মধ্যে ইসরায়েলে দুই দফা হামলা করেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বাব এল মানদেব প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচল। এ রুট বন্ধ হয়ে গেলে নতুন সংকটে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি।
সূত্র: রয়টার্স