গাজার খান ইউনুসে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) সদর দফতরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একজন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো তিনজন। রোববার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। হামলার পর ভবনে আগুন ধরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর বিবিসি।
পিআরসিএস জানিয়েছে, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত। কারণ ভবনটি আন্তর্জাতিক রীতিতে চিহ্নিত। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর কাছেও এর অবস্থান সুপরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ও ধোঁয়া। আর রক্তের দাগ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
নিহত ত্রাণকর্মীর নাম ওমর ইস্লিম। আহতদের মধ্যে সংস্থার দুই কর্মী ছাড়াও একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় কোনো গোলাবর্ষণ বা বিমান হামলার তথ্য জানে না। তবে রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, এটি কোনো ভুল নয়। আমরা আবারো মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তাকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি।
এই হামলার মধ্যেই গাজায় মানবিক সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দিক থেকে খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১ হাজার ৩৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব হতাহতদের বেশিরভাগই গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হন। তবে জিএইচএফ এই তথ্য অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, হামাস ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। অন্যদিকে, গাজায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলবাহী দুটি ট্রাক প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মিসরের সরকারি গণমাধ্যম।
ইসরায়েল বহুদিন ধরে গাজায় ত্রাণ ও অন্যান্য পণ্যের প্রবেশ বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে চিকিৎসা খাত মারাত্মক সংকটে পড়ে। বর্তমানে কিছুটা শিথিলতা এলেও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা বলছে, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির ভয়াবহ অবস্থা থেকে বাঁচাতে আরো সহায়তা দরকার।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, অপুষ্টিতে এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯৩ জনই শিশু।
ইসরায়েল বলছে, তারা ত্রাণ আটকে দিচ্ছে না বরং জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো ঠিকমতো বিতরণ করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি নেয়ার পর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।