উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত, দাবি ট্রাম্পের

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের এ নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং জরিপে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন। কারণ এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে’। খবর বিবিসি।

নিজের মালিকাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নেতারা তাকে হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের অনুরোধ করেছেন।

তিনি বলেন, জানানো হয়েছে যে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। পাশাপাশি ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না!’

তবে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার বড় আকারের হামলা শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে’।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন ‘আবারো কৌশলগত ভুল করে’।

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের এ নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং জরিপে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

গতকাল প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা পোল পরিচালিত যৌথ জরিপ অনুসারে, ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল ।

জরিপে আরো দেখা গেছে, মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন করেন। এ ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে যেকোনো নতুন হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিশোধ নিয়ে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো ভয়ে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় একাধিক হামলা করে তেহরান। এতে মার্কিন স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্র দিয়ে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং গ্রীষ্মকালে গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত ডেস্যালিনেশন প্লান্টগুলোয় হামলা চালাতে পারে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এটিকে ‘খুব ইতিবাচক অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেন, তবে তিনি বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত কোনো ফল দেবে কিনা তা এখনো দেখা বাকি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন সময়ও দেখেছি যখন আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তা হয়নি। তবে এবার বিষয়টি কিছুটা আলাদা।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘বোমা মেরে তাদের ধ্বংস করার পরিবর্তে যদি আমরা সেটা ছাড়াই সমাধান করতে পারি, আমি খুবই খুশি হব।’

আরও