ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানি প্রায় দুই হাজার, এখনো নিখোঁজ ৪৩ হাজারের বেশি

কমছে জীবিতদের উদ্ধারের আশা

ভূমিকম্পের পর অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় চলমান অভিযানে মরদেহ উদ্ধারকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে এখনো জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা একেবারে ছাড়েননি তারা।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। উদ্ধার অভিযানে ধীর গতির পাশাপাশি খাদ্যসংকট, সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। খবর ডয়েচে ভেলে ও সিএনএন।

গত সপ্তাহে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলা। দেশটির সরকার, বিরোধী দল, ইউনিসেফ এবং নাসার যৌথ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ জনের বেশি। এছাড়া প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

ভূমিকম্পের পর অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় চলমান অভিযানে মরদেহ উদ্ধারকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে এখনো জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা একেবারে ছাড়েননি তারা। লা গুয়াইরার মাকুতো এলাকায় একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ও তার তিন সন্তানকে উদ্ধারের জন্য টানা ৪০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েছে ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল। কিন্তু ভেতর থেকে আর কোনো সাড়া না পাওয়ায় অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় তারা।

ইকুয়েডর দলের প্রধান মেজর হোর্হে মন্তানেনো জানান, অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ায় এখন আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে এর মধ্যেই কারাকাসে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লা গুয়াইরা অঞ্চলের বাতাস লাশের গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছে। বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে ধসে পড়া বহুতল আবাসিক ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ সরাতে মানুষ কোদাল, শাবল এবং খালি হাত ব্যবহার করছে।

লা গুয়াইরার বাসিন্দা হাসেল মেন্দোজা পেশায় প্রকৌশলী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পা থেকে উড়ে এসেছেন মা, বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেকে খুঁজতে। তাদের ৯ তলা আবাসিক ভবনটি এখন ধ্বংসস্তূপ। গত দুই রাত ধরে তিনি খোলা আকাশের নিচে মাটিতেই ঘুমাচ্ছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে তিনি জানান, লোহা বা স্টিল কাটার মতো নির্দিষ্ট কাজের জন্য কোন ধরনের বিকল্প হাতিয়ার ব্যবহার করা যায়, তা ভাবতেই আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, সঠিক সরঞ্জামের অভাবে তল্লাশি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী আরাগ থেকে আসা একটি সিভিল ডিফেন্স দলও দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি সঙ্গে আনেনি। ছিল না কোনো ড্রিল মেশিন কিংবা সেন্সর। সরকারের পক্ষ থেকে এবং অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া খাবার পানির অনুদান সহায়তার ক্ষেত্রে কাজে লাগলেও, তা এ সংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, আগামী তিন মাস দুর্গত ৫ লাখ মানুষকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দিতে তাদের ৫ কোটি ডলারের জরুরি তহবিল প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অন্তত তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয়টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এতে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার সতর্ক করে বলেছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে হাম, ম্যালেরিয়া, ইয়েলো ফিভার ও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি স্যানিটেশন সংকট ও কম টিকাদানের হারকে দায়ী করেছেন।

আরও