ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকা যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দীর্ঘদিনের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন আহ্বানে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ সাড়া না দেয়ায় ট্রাম্প তাদের সরাসরি ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, কয়েক দশক ধরে যাদের আমেরিকা নিরাপত্তা দিয়ে আসছে, সংকটের সময় তাদের এই অনাগ্রহ কোনোভাবেই কাম্য নয়। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানের ড্রোন ও নেভাল মাইনের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ। এই কৌশলগত জলপথটি পুনরায় সচল করতে মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে জার্মানি, স্পেন এবং ইতালির মতো দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে সেখানে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সরাসরি বলেন, এই যুদ্ধ শুরুর আগে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করেনি, তাই প্রয়োজনীয় আইনি ম্যান্ডেট ছাড়া তারা এতে অংশ নেবে না।
মিত্রদের এমন অবস্থানে ট্রাম্পের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে চরম হতাশা। তিনি বলেন, ‘কিছু দেশ খুব উৎসাহী হলেও কেউ কেউ মোটেও নয়। এমন সব দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে ভয়াবহ সব বাইরের শত্রু থেকে রক্ষা করেছি, অথচ এখন তারা যথেষ্ট উৎসাহ দেখাচ্ছে না।‘ ট্রাম্প আরো যোগ করেন, মিত্র দেশগুলোর এই ‘উৎসাহের মাত্রা’ তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দিয়ে তিনি আগামী দিনে সম্পর্কের মূল্যায়ন করবেন।
এদিকে কানাডা, ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় শক্তিগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। তারা সরাসরি কোনো সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং সংঘাত এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মধ্যেই ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া প্রতিবেশী দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন শিল্প কারখানাগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।