ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযানের কারণ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ইরানে হামলার হুমকিকে কেবল ট্রাম্পের আলোচনার কৌশল হিসেবে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কারণ আগে কয়েক দফা হুমকির পর তা বাস্তবায়নের নজির আছে। উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার কথা বলা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ গঠন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে এ পর্ষদের প্রথম সম্মেলনেই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। ফলে শিগগিরই এ অঞ্চলে নতুন একটি যুদ্ধ হওয়ার আশংকা বাড়ছে। খবর বিবিসি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী বৈঠকে ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি কী করবেন তা দেখার জন্য বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান ‘অর্থবহ চুক্তি’ না করলে খারাপ কিছু ঘটবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

একদিকে শান্তির আহ্বান, অন্যদিকে সামরিক হামলার হুমকি, এমন বৈপরীত্যের কারণে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের ধারণা, এতে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিমান হামলার দিকে ঝুঁকছে।

এদিকে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান হিসেবে একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতি টানতে চান। তবে বারবার কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প একের পর এক হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন।

ইরানে হামলার হুমকিকে কেবল ট্রাম্পের আলোচনার কৌশল হিসেবে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কারণ আগে কয়েক দফা হুমকির পর তা বাস্তবায়নের নজির আছে। উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার কথা বলা যায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্যমতে, মাদুরোকে সফলভাবে আটক করাটাই সে সামরিক অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য ছিল। তবে ইরানের ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা অনেকটাই অস্পষ্ট।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ইরান ট্রাম্পের কথামতো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ইস্যুতে আলোচনায় রাজি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনাগুলো থমকে আছে । কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত, তেহরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

তবে ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বৃহত্তর উদ্দেশ্যগুলো কিছুটা রহস্যে ঘেরা । ট্রাম্প কি সত্যিই ইরানে সরকার পরিবর্তন চান; তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা জবাবের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু প্রস্তুত কিংবা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কৌশলগত লক্ষ্যকে আদৌ প্রভাবিত করবে কি না, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করলে শান্তি পর্ষদ গাজার পুনর্গঠনে কতটুকু কাজ করতে পারবে; এ বিষয়গুলো নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে তেমন কিছু বলেননি।

আবার সম্ভাব্য এই হামলায় ইসরায়েলের ভূমিকাও অনেকটাই অস্পষ্ট। তবে গত বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইসরায়েল যোগ দিয়েছিল। তাই ট্রাম্প নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে তারা আবারও অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও