তালেবান মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিক বর্জন, ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে মোদি সরকার

‘কেন আমাদের মেরুদণ্ডহীন পুরুষ সাংবাদিকরা রুমে রইল?’

রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে বলেছেন যে, অনুষ্ঠানটি চলতে দেয়া মানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রতিটি নারীকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের জন্য তিনি দাঁড়াতে পারবেন না।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে এক প্রেস ইভেন্টে নারী সাংবাদিকদের অংশ নিতে না দেয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকেরা। দিল্লির আফগান দূতাবাসে শুক্রবার আয়োজিত সে অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের বর্জন করার পরও ভারত সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

জানা গেছে, আফগান দূতাবাসে মুত্তাকির সঙ্গে ফোরামে অংশ নেয়ার জন্য প্রায় ১৬ জন পুরুষ সাংবাদিককে বেছে নেয়া হয়েছিল। সেখানে নারী সাংবাদিক ও বিদেশী গণমাধ্যমের কর্মীদের ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে সাংবাদিকেরা জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, আফগান দূতাবাসে হওয়া সে 'প্রেস ইন্টারঅ্যাকশনে' তাদের কোনো রকম ভূমিকা ছিল না।

অন্যদিকে, তালেবান সরকারের একটি সূত্র স্বীকার করেছে যে, নারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তারা বিবিসিকে বলেছে, সমন্বয়ের অভাবের কারণে নারী সাংবাদিকদের বাদ দেয়া হয়েছিল এবং যদি পরবর্তী সম্মেলন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় তবে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এ ঘটনা নিয়ে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে বলেছেন যে, অনুষ্ঠানটি চলতে দেয়া মানেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রতিটি নারীকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের জন্য তিনি দাঁড়াতে পারবেন না।

ভারতের এডিটরস গিল্ড এই বর্জনের তীব্র নিন্দা করে বলেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানটির সমন্বয় করুক বা না করুক, এ ধরনের বৈষম্যমূলক বর্জন যে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই চলতে দেয়া হলো, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ভারত সরকারের কাছে প্রকাশ্যে এ কথা পুনর্ব্যক্ত করার দাবি জানিয়েছে যে, ভারতে অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক ইভেন্টগুলোতে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারকে অবশ্যই লিঙ্গ সমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

মুত্তাকি সপ্তাহব্যাপী উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার জন্য ভারতে রয়েছেন। শুক্রবার তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কাবুলের ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় খোলা হবে।

ভারতীয় রাজনীতিবিদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে ‘নারী সাংবাদিকদের বাদ দেয়ার’ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন—নারীরা যে দেশের মেরুদণ্ড এবং গর্ব, সেই দেশে ভারতের সবচেয়ে যোগ্য নারীদের কয়েকজনের প্রতি এই অপমান কীভাবে ঘটতে দেয়া হলো।

অন্যান্যরাও এই ঘটনায় বিস্মিত হয়ে বলেছেন, যে পুরুষেরা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, তাদের উচিত ছিল নারী সহকর্মীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বেরিয়ে আসা। রাজনীতিবিদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘কেন আমাদের মেরুদণ্ডহীন পুরুষ সাংবাদিকরা রুমে রইল?’ তিনি আরো যোগ করেছেন— সরকার তালেবান মন্ত্রীর এমন আচরণ মেনে নিয়ে দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে।

আরও