মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধ সমাপ্তি ও জিম্মি মুক্তি সংক্রান্ত প্রস্তাবের জবাবে হামাস সম্মতি জানানোর পর, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দ্রুততার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্ত করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। অন্যদিকে, আইডিএফ প্রধান শীর্ষ জেনারেলদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন এবং সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।
এক বিবৃতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়— জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নে ইসরায়েল প্রস্তুত। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দলের সঙ্গে আমরা পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যাব, যাতে ইসরায়েলের দেয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধ শেষ করা যায়— যা ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।‘
তবে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় তাদের বিবৃতিতে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ট্রাম্পের আহ্বানের কোনো উল্লেখ করেনি। উল্লেখ্য, ট্রাম্প বলেছিলেন যে, জিম্মিদের নিরাপদে এবং দ্রুত মুক্ত করার জন্য এই হামলা বন্ধ করা জরুরি।
হামাসের প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে, আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শীর্ষ জেনারেলদের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর আলোকে একটি বিশেষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন বৈঠক করেছেন। আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়— ‘রাজনৈতিক মহলের আদেশ অনুযায়ী, জেনারেল জামির ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে জিম্মিদের মুক্তির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদেশে ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই বিবৃতিতে এমন ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্ভবত গাজা সিটি দখলের জন্য চলমান আক্রমণাত্মক অভিযান স্থগিত করে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের ওপর মনোযোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো জোর দিয়ে বলা হয়, ‘আমাদের বাহিনীর নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের সৈন্যদের সুরক্ষার জন্য আইডিএফ-এর সমস্ত সক্ষমতা সাউদার্ন কমান্ডে বরাদ্দ করা হবে।‘
আইডিএফ প্রধান জামির বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, অপারেশনাল সংবেদনশীলতার কারণে বাহিনীকে অবশ্যই বর্ধিত প্রস্তুতি এবং সচেতনতা প্রদর্শন করতে হবে। একইভাবে, যেকোনো হুমকি দ্রুত মোকাবেলা করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ থামানোর এবং জিম্মি বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে, নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্পষ্টতা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে চুক্তির বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।