নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র কতটা বিপজ্জনক

ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে ইরানের ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ সেজ্জিল

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা শাহাব সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যেই সেজ্জিল তৈরি করা হয়। এর পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার। সলিড ফুয়েল ব্যবহারের কারণে এটি তরল জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে সেজ্জিল প্রায় ৭ মিনিটে তেল আবিবে পৌঁছাতে পারে

ইসরায়েলের শক্তিশালী আয়রন ডোম ফাঁকি দিয়ে প্রথমবারের মতো সেজ্জিল নামের ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ উড্ডয়ন করেছে ইরান। মাঝারি পাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্র অনেক উঁচু দিয়ে ওড়ার সময়ও পথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে বলেই ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বা ‘নাচুনে ক্ষেপণাস্ত্র’ বলে ডাকা হয়ে থাকে। প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে একে শনাক্ত করা কঠিন। জানা গেছে, সেজ্জিল–২ সংস্করণে আরো উন্নত অ্যান্টি-রাডার কোটিং ব্যবহার করা হয়েছে।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রকে আশুরা নামেও ডাকা হয়। এটি দুই ধাপবিশিষ্ট একটি সারফেস-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে চালিত হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোপুরি ইরানে নকশা ও নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও কিছু প্রতিবেদনে এর প্রযুক্তি উন্নয়নে চীনের সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা শাহাব সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যেই সেজ্জিল তৈরি করা হয়। এর পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার। সলিড ফুয়েল ব্যবহারের কারণে এটি তরল জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে সেজ্জিলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার, ব্যাস ১ দশমিক ২৫ মিটার আর মোট ওজন প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কেজি। এটি প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে প্রচলিত বিস্ফোরকের পাশাপাশি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতাও রয়েছে।

এর গতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে সেজ্জিল প্রায় ৭ মিনিটে তেল আবিবে পৌঁছাতে পারে।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজ-এর তথ্যানুযায়ী, ইরান ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন শুরু করে। এর প্রযুক্তিগত ভিত্তি ছিল আগের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে জেলজাল স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ২০০৮ সালে এর প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয়। সেসময় এটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক সংস্করণ রয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার জানিয়েছে, তারা সেজ্জিলের পাশাপাশি খোররামশাহর, খেইবার শেকান, কাদর ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল আল-হারির বিমানঘাঁটি, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি ও কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান।

বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতেও ইরান সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। তখন তেল আবিব থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের বিয়ার শেভা শহরের দুটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।

আরও