কংগ্রেসের জবানবন্দি

এপস্টেইন সম্পর্কে 'অন্যান্য' কিছু দেখিনি, কোনো ভুল করিনি: ক্লিনটন

'জনহিতকর' কাজের জন্য এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ২৭ বার ব্যবহার করার কথা ক্লিনটন স্বীকার করলেও তার দাবি, কোনোদিন এপস্টেইনের কুখ্যাত ‘প্রাইভেট আইল্যান্ড’ এ যাননি।

তিনি বারবার বলেন, ‘আপনারা আমাকে যত খুশি ছবি দেখান, দিনশেষে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আমি কী দেখেছি আর কী দেখিনি; আমি কী করেছি আর কী করিনি। আমি কোনো অন্যায় দেখিনি, আর কোনো ভুলও করিনি।‘

বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত অর্থদাতা এবং কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসের মুখোমুখি হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের চাপাকুয়ায় নিজ বাসভবনে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে আইনপ্রণেতাদের কঠোর জেরার মুখে পড়েন তিনি। জেরা শেষে ক্লিনটন দাবি করেছেন, এপস্টাইনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না এবং নিজে কোনো ভুল করেননি। খবর এপি।

তদন্ত কমিটির সামনে দেয়া এক বিবৃতিতে ক্লিনটন বলেন, ‘আমি অন্যায় কিছুই দেখিনি এবং কোনো ভুল করিনি।‘ তিনি জানান, ২০০৮ সালে এপস্টেইন যখন প্রথমবার অপরাধী সাব্যস্ত হন, তার অনেক আগেই তিনি তার সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। দুই দশক আগের ঘটনা সব মনে রাখা কঠিন হলেও, এপস্টেইনের যৌন নিপীড়নের কোনো লক্ষণ তার চোখে পড়েনি বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।

জবানবন্দির শুরুতেই ক্লিনটন তার শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি নিজে পারিবারিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। এপস্টেইন কী ধরনের অপরাধ করছিল, তার সামান্যতম আভাসও যদি আমি পেতাম, তবে আমি তার বিমানে তো চড়তামই না, বরং আমি নিজেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতাম এবং তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাতাম।‘

জেরার সময় রিপাবলিকান সদস্যরা ক্লিনটনের সামনে এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার পুরোনো কিছু ছবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে একটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে ক্লিনটনকে একটি 'হট টাব'-এ এক নারীর সঙ্গে দেখা যায়। ক্লিনটন শপথ নিয়ে বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কোনো যৌন সম্পর্কেও জড়াননি।

তিনি বারবার বলেন, ‘আপনারা আমাকে যত খুশি ছবি দেখান, দিনশেষে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আমি কী দেখেছি আর কী দেখিনি; আমি কী করেছি আর কী করিনি। আমি কোনো অন্যায় দেখিনি, আর কোনো ভুলও করিনি।‘

জবানবন্দিতে ক্লিনটন রিপাবলিকানদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে এই তদন্তে টানার জন্য। তিনি বলেন, ‘হিলারিকে এখানে ডাকা মোটেও ঠিক হয়নি। এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। সে এমনকি কোনোদিন এপস্টেইনের সঙ্গে দেখাও করেনি।‘ উল্লেখ্য, হিলারি তার জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন তিনি এপস্টেইনকে চেনেনই না।

এপস্টেইন ১৭ বার হোয়াইট হাউসে গেলেও ক্লিনটন দাবি করেন, হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে তার সঙ্গে কোনো বিশেষ কথোপকথন মনে রাখা অসম্ভব। 'জনহিতকর' কাজের জন্য এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ২৭ বার ব্যবহার করার কথা ক্লিনটন স্বীকার করলেও তার দাবি, কোনোদিন এপস্টেইনের কুখ্যাত ‘প্রাইভেট আইল্যান্ড’ এ যাননি। জেরার সময় ক্লিনটন জানান, ২০০০ সালের শুরুর দিকে এক গলফ টুর্নামেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের ঝগড়া হয়েছে এবং তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ।

হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, ‘যৌন অপরাধী হিসেবে পরিচিত হওয়ার পরও কেন এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হয়েছিল, তা জানাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।‘ যদিও ক্লিনটনের স্মৃতিশক্তি নিয়ে কিছু রিপাবলিকান সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, তবে তারা তার স্পষ্টবাদিতা ও দক্ষতার প্রশংসাও করেছেন।

ডেমোক্র্যাটরা এখন একই কায়দায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমন পাঠানোর জোর দাবি তুলছেন। ক্লিনটন তার জবানবন্দি শেষ করেন এই বলে যে, ‘সত্য ও ন্যায়বিচার কোনো রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখা উচিত নয়।‘

আরও