টাইগ্রের রাজধানী মেকেলে দখলে নিল ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলের রাজধানী মেকেলে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র মিলিশিয়ারা। স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে সরকারি বাহিনীর সমর্থক টাইগ্রে পিস ফোর্সেসের যোদ্ধারা মেকেলের কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীও প্রবেশ করে। রোববার তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে মেকেলে থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোট জানিয়েছে, আঞ্চলিক সরকারকে ‘সাময়িকভাবে মেকেলের বাইরে সরিয়ে নেয়া হবে’ এবং অন্য কোনো স্থান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সরকারপন্থী মিলিশিয়া টাইগ্রে পিস ফোর্সেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে তাদের যোদ্ধারা মেকেলের কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এরপর ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে। একটি মানবিক সহায়তাকারী সূত্র এবং মেকেলের এক বাসিন্দাও শহরটি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মেকেলে দখলে নেয়ার ঘটনা টিপিএলএফ নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর টিপিএলএফ নেতৃত্বাধীন জোট ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছিল। এরপর সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র যোদ্ধারা টাইগ্রে অঞ্চলে দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায়।

টাইগ্রেতে চলমান সংঘাত ২০২০ থেকে ২০২২ সালের গৃহযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ লড়াই আরো বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

এদিকে টাইগ্রে সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনাও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আদ্দিস আবাবা অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সুদান ও মিসরের সঙ্গে মিলে টিপিএলএফ নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোটকে সমর্থন করছে। তবে ইরিত্রিয়া, সুদান ও মিসর—তিন দেশই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরও