যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান: তাসনিম নিউজ

২৩ আপডেট
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান: তাসনিম নিউজ

    মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ১৫ দফার প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে অবগত এক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ। ওই সূত্র জানিয়েছে, তেহরান বুধবার রাতে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে এবং এখন ফিরতি উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সূত্রটি জানিয়েছে, ইরান তার জবাবে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শত্রুপক্ষের আগ্রাসী এবং গুপ্তহত্যার নীতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে; যুদ্ধ যাতে পুনরায় ফিরে না আসে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত ও নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে; যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে হবে, এর পরিমাণ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং এ লড়াইয়ে অঞ্চলের যে সমস্ত প্রতিরোধ গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে, সব ফ্রন্টে তাদের সবার জন্য যুদ্ধের সমাপ্তি কার্যকর করতে হবে।

    সূত্র আরো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ একটি স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার এবং এটি বজায় থাকবে। অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গ্যারান্টি হিসেবেও এ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    সূত্রটি উল্লেখ করেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কয়েকদিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনার দাবির বাইরে এগুলো ইরানের অতিরিক্ত শর্ত।

    মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সম্পর্কে সূত্রটি জোর দিয়ে বলেছে, ইরানের কাছে এটি স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের এ আলোচনার দাবি মূলত একটি 'তৃতীয় প্রতারণা' প্রকল্প। তাদের মতে, আলোচনার নাম দিয়ে মার্কিনিরা কয়েকটি লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। এর মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি চাইছে এমন একটি আপাত শান্তিবাদী ভাবমূর্তি তৈরি করে বিশ্বকে ধোঁকা দেয়া, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম রাখা এবং দক্ষিণ ইরানে স্থলপথ দিয়ে নতুন কোনো আগ্রাসনের জন্য সময় নেয়া।

    সূত্রটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের আগে আলোচনার ফলাফল এবং আমেরিকার চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে ইরানের মনে যদি কোনো সন্দেহ থেকে থাকে, তবে এখন আমেরিকার আলোচনার সদিচ্ছা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ সন্দিহান। ওই যুদ্ধ এবং চলমান যুদ্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই আমেরিকানরা আলোচনা চলাকালীনই হামলা শুরু করেছিল। এবারও তারা আলোচনার মিথ্যা অজুহাতে নতুন কোনো অপরাধের পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছে ইরান।

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    ইরানকে শান্তি চুক্তিতে রাজি করানোর শক্তিশালী লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: স্টিভ উইটকফ

    মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানকে একটি শান্তি চুক্তিতে রাজি করানো যেতে পারে- এমন তীব্র লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে উইটকফ বলেন, আমরা দেখব বিষয়গুলো কোন দিকে যায়। যদি ইরানকে বোঝাতে পারি, এটিই সেই সন্ধিক্ষণ যেখানে মৃত্যু এবং ধ্বংস ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো ভালো বিকল্প নেই—তবে একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। আমাদের কাছে শক্তিশালী লক্ষণ রয়েছে, এটি সম্ভব।

    মার্কিন এ দূত আলোচনার পথ স্থবির করে দেয়া এবং বারবার যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এখন এ যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।

    উইটকফ বলেন, এ সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে আগ্রহী এমন অনেক আঞ্চলিক এবং অন্যান্য পক্ষের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    তিনি আরো জানান, ইরান মার্কিন প্রতিনিধিদের বলেছে, তাদের কাছে বর্তমানে ১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ (৪৬০ কেজি) ইউরেনিয়াম রয়েছে।

    তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অত্যন্ত সন্দিহান। কারণ গত এক বছরে শান্তি আলোচনার চলাকালীনই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল।

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    ইরান উপহার হিসেবে ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় নিজেদের আন্তরিকতা প্রমাণে ইরান উপহার হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি উপহার পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প যে রহস্যময় মন্তব্য করেছিলেন, তার রেশ ধরে তিনি বলেন, ইরান প্রথমে এ সপ্তাহে ৮টি তেলের বিশাল জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয় এবং পরবর্তীতে আরো দুটি জাহাজকে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

    তিনি আরও জানান, এ ট্যাংকারগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের পতাকাবাহী কিছু জাহাজও ছিল।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে মালয়েশিয়ার জাহাজ

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ইরান ছাড়াও মিশর, তুরস্কসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।

    এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া সর্বশেষ দেশ হিসেবে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতির কথা জানাল।

    এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন ও জাপানের কিছু জাহাজও এ জলপথ ব্যবহার করতে পেরেছে।

    সূত্র- বিবিসি

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানে হামলার দাবি ইরানের

    ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তাত-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে।

    বিবিসি ফার্সির এক খবরে বলা হয়েছে, গতকাল ইরানের গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

    বিবিসির ফ্যাক্ট-চেকিং বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ওই ভিডিওগুলোর অন্তত একটি চাবাহার বন্দর এলাকার টিস সেতুর কাছে ধারণ করা হয়েছে।

    প্রকাশিত ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, উড়ন্ত এফ-১৮ যুদ্ধবিমানটিতে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং এক পর্যায়ে এর লেজের দিকে বিস্ফোরণ হয়। তবে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে কী-না তার কোনো ভিডিও বা প্রমাণ দেখা যায়নি।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।

    সূত্র- বিবিসি ফার্সি

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার খবরের মধ্যেই তেলের দাম বাড়ল ৫ শতাংশ

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনার খবরের মধ্যেই তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড অয়েলের দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটেও তেলের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    বেশি দেরি হওয়ার আগে আলোচনায় আসুক ইরান: ট্রাম্প

    ইরানকে আলোচনায় ফিরতে আবারো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই বিষয়টি (আলোচনা) গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে তাদের (ইরান)। কারণ একবার এটি ঘটলে, ফেরার কোনো পথ নেই এবং এটি ভালো দেখাবে না!

    তিনি দাবি করেন, ইরান সামরিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, সেখান থেকে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার করেনি কেউ

    তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালুগ্লু জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলার সময় জাহাজটিতে তুরস্কের ২৭ জন নাবিক ছিলেন।

    দেশটির সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আরেক সংবাদমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, জাহাজটির মালিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ‘বেসিকতাস’। তবে এটি সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা হয়েছিল।

    আবদুল কাদির উরালুগ্লু বলেন, আমাদের ধারণা, জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে নয়, বরং একটি চালকবিহীন নৌযান (আনম্যানড সারফেস ভেহিকল) দিয়ে করা হয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বসফরাস প্রণালি থেকে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে এ হামলা হয়েছে।

    উরালুগ্লু আরো বলেন, এটি বাইরে থেকে ঘটানো কোনো বিস্ফোরণ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে এ হামলা করা হয়েছে, যাতে জাহাজটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

    তবে কোনো দেশই এখনো এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    রাশিয়া ইরানে ড্রোন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে না: ক্রেমলিন

    রাশিয়া ইরানের জন্য ড্রোন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

    একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, গণমাধ্যমে এত বেশি মিথ্যা রটানো হচ্ছে... তাদের প্রতি মনোযোগ দেবেন না।

    রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ রয়েছে। ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে রাশিয়া। তবে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে তেহরানকে সহযোগিতার কথা প্রকাশ্যে আসেনি। যদিও এমন আলোচনা আছে যে, রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে সহযোগিতা করছে।

    সূত্র: আল–জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    জ্বালানি সারচার্জ ৩৪ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা হংকংয়ের বিমান সংস্থা ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজের

    আগামী মাসে জ্বালানি সারচার্জ ৩৪ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে হংকংয়ের পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়াকে এর জন্য দায়ী করেছে সংস্থাটি।

    ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে এ দাম প্রতি ব্যারেলে ১৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।

    ক্যাথে প্যাসিফিক জানিয়েছে, জ্বালানি খরচের এ চরম বৃদ্ধি যদি কার্যকরভাবে প্রশমিত করা না যায়, তবে আমাদের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে না।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে: ইরান

    ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, এর বাইরে ২৪ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার নারী এবং ১ হাজার ৬২১ জন শিশু রয়েছেন।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার কথা নিশ্চিত করল পাকিস্তান, সঙ্গে আছে তুরস্ক-মিশরও

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, তুরস্ক, মিশর এবং আরো কিছু দেশও এ উদ্যোগে সমর্থন দিচ্ছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তি রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ অঞ্চলে ও এর বাইরে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এ বিষয়ে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলাতি জানিয়েছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পাশাপাশি মিশরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে সহায়তা করছে। এছাড়া আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পরিচালিত বৃহত্তর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাতেও মিশর সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    আইআরজিসির নৌবাহিনী প্রধান হামলায় নিহত, দাবি ইসরায়েলের

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন।

    কাটজ অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও অবরোধের মতো 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে' সরাসরি জড়িত ছিলেন আলিরেজা তাংসিরি এবং হামলা চালিয়ে তাকে 'উড়িয়ে' দেয়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর আরো কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।

    এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাসে এক হামলায় তানসিরি নিহত হয়েছেন।

    আলিরেজা ২০১৮ সালে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। এর আগে ২০১০ সাল থেকে তিনি আইআরজিসির নৌবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে তার নামে একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে এবং ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো সেই অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলো উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করছে। এসব পোস্টে তিনি বেশ কয়েকবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

    ওই অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজের এই প্রণালি দিয়ে যাওয়া-আসার অধিকার নেই।

    তাংসিরি একজন স্পষ্টভাষী কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০১৯ সালে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরানের তেল রফতানি ব্যাহত হলে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবেন।

    ২০১৯ সালে ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার পর, অন্যান্য আইআরজিসি কমান্ডারদের সঙ্গে তাংসিরির ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

    সূত্র- বিবিসি বাংলা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ চলতে পারবে: আরাগচি

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এ জলপথ খোলা থাকবে। ইরানের এ বন্ধুতালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকেই এ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা গণমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে।

    তিনি বলেন, আপনারা সংবাদে দেখেছেন চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারতের জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে। কয়েক রাত আগে ভারতের দুটি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে। এমনকি আমার বিশ্বাস বাংলাদেশও এর মধ্যে রয়েছে। এ দেশগুলো আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে। যুদ্ধের পর অর্থাৎ ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

    আরাগচি আরো বলেন, আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনো কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।

    তবে যারা এ যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এ পথে চলতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আরাগচি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    আরাগচি বলেন, আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানগামী একটি কন্টেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে বাধা দেয় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ থেকে করাচির দিকে যাওয়া 'সেলেন' নামের জাহাজটিকে ট্রানজিট অনুমোদন না থাকায় জাহাজটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করে আইআরজিসি।

    হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের এই পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    ইসরায়েলি পারমাণবিক অবকাঠামোয় হামলার দাবি আইআরজিসির

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের ৮২তম ধাপ শুরু করেছে।

    আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোরে শুরু হয়েছে হামলার সর্বশেষ ধাপ। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ডেড সি’র দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ায় বাড়তে পারে জ্বালানি সংকট ও অস্থিরতা

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধিকে ঘিরে নানা ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। যদি বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনা পাঠালে ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।

    কেপলারের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মুয়ু শু বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা এ সংঘাতের হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং খুব শিগগিরই জ্বালানি তেলের দাম কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এশিয়ার দেশগুলোয় বাড়তে পারে জ্বালানি সংকট। সৃষ্টি হতে পারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।

    তিনি আরো বলেন, জাপানের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেলের মজুদ রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুসারে ছাড়া হচ্ছে। তবে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ তুলনামূলক কম। এসব দেশে তেলের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানির দাম বাড়া নয়, বরং বাস্তব সংকট। এমন পরিস্থিতিও হতে পারে, যখন পেট্রল পাম্পে জ্বালানি পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে এবং এয়ারলাইনস সংস্থাগুলোকে এক পর্যায়ে ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হতে পারে।

    যদি পরিস্থিতি এপ্রিলের মাঝামাঝি বা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে কয়েকটি এশীয় দেশে গুরুতর প্রভাব দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকট।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    পাকিস্তানের অনুরোধে ‘হিট লিস্ট’ থেকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম সরিয়েছে ইসরায়েল

    পাকিস্তানের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনকে পাকিস্তান অনুরোধ করার পর ইসরায়েল ‘হিট লিস্ট’ থেকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নাম সরিয়ে নিয়েছে।

    সূত্রটি বলছে, ইসরায়েলিদের কাছে তাদের অবস্থানের তথ্য ছিল এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, যদি তাদেরও সরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ থাকবে না। এরপর ইসরায়েলকে পিছিয়ে আসতে বলে যুক্তরাষ্ট্র।

    পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও জানিয়েছিল, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে গিয়ে ইরানের এ দুই শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে ইসরায়েলের লক্ষ্য তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ৪-৫ দিনের জন্য তাদের তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। তবে এতে পাকিস্তানের কোনো ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

    ইরান যুদ্ধ শেষ করতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক।

    ইসলামাবাদ এমন এক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যখন অন্য অনেক দেশের জন্য এ যোগাযোগ চ্যানেলগুলো কার্যত বন্ধ। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা হলে স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    মজুদ থেকে জ্বালানি তেল ছাড়া শুরু করেছে জাপান

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব হ্রাস এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে ৩০ দিনের সমপরিমাণ জ্বালানি তেল ছাড়া শুরু করেছে জাপান।

    দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইমাবারির কিকুমা ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম স্টকপোল থেকে এ ছাড় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    জাপান অর্গানাইজেশন ফর মেটালস অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক পরিশোধনাগারে এ জ্বালানি তেল স্থানান্তর করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে জ্বালানি তেল ছাড়ার পদক্ষেপটি এসেছে জাপান বেসরকারি খাতের মজুদ থেকে ১৫ দিনের সমপরিমাণ ছাড় শুরুর ১০ দিন পর।

    সূত্র: এপি

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা নিহত

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। সীমান্তজুড়ে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে।

    এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা দাঁড়াল তিনে। এর আগে গত ৮ মার্চ দুজন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নিহত ২

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবিতে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন।

    মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল বা নিহতদের জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতে অন্তত ১০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত শনিবার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মোট আটজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। অন্য ছয়জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ফিলিস্তিনের নাগরিক রয়েছেন।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    আলোচনার মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে দেশটি।

    কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে আসছে তিনটি যুদ্ধজাহাজ। সাধারণত বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত হয় এ বাহিনী।

    সর্বশেষ খবর হলো, অঞ্চলটিতে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনও মোতায়েন হবে। প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত মোতায়েন করা যায় এটি এমন এক বিশেষ বাহিনী। তারাও বিশেষ অভিযানে অংশগ্রহণ করে, যা নানা ধরনের গুঞ্জনও তৈরি করেছে।

    বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটিতে ‘রাজমুকুটের রত্ন’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখান থেকেই সবচেয়ে বেশির ভাগ জ্বালানি তেল রফতানি করে ইরান। এর আগেও খার্গ দ্বীপে হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে। যাকে বলা হয় ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ বা মাঠে সৈন্য নামানো। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রশাসনে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব বাজারে

    অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম আজ আবারো বেড়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোয় লেনদেনের শুরুতেই বেশিরভাগ সূচক নিম্নমুখী ছিল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ প্রশমিত হবে কিনা এমন অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৯৮ ডলার ৭২ সেন্ট। গতকাল দাম ছিল ৯৫ ডলারের নিচে। এছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন মানদণ্ড ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ১৬ সেন্টে পৌঁছেছে।

    জ্বালানি তেলের দামের এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে রয়েছে তেহরানের অবস্থান। গতকাল যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল এবং একই সঙ্গে ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে নিজের নির্ধারিত হামলার সময়সীমা পেছান।

    আজ জাপানি শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে হংকংয়ের শেয়ারবাজার সূচক হ্যাং সেং ১ দশমিক ৯ শতাংশ পতন দেখেছে।

    সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি বাজারে চাপ তৈরি অনিশ্চয়তা করছে। শেষ করে জ্বালানি তেল ও শেয়ারবাজারে এর সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    সূত্র: এপি

  • ২৬ মার্চ, ২০২৬

    পর্যালোচনায় থাকা চুক্তিতে লেবাননকে যুক্ত করতে আগ্রহী তেহরান

    উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত থামাতে সরাসরি কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এছাড়া সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে লেবাননকে যুক্ত করতে চায় দেশটি। খবর রয়টার্স।

    তেহরান তাদের শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে কিছুটা আগ্রহী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আব্বাস আরাঘচি। যদিও শুরুতে তারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকে তীব্রভাবে নাকচ করেছিল।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘তারা কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যা উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারাই এ বিষয়ে অবস্থান জানাবেন।’

    এছাড়া আঞ্চলিক ছয়টি সূত্রের মতে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে—যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে হবে।

    এদিকে গতকাল রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ইরানের নেতারা আসলে আলোচনা করছে। তারা খুবই চায় একটি চুক্তি করতে, কিন্তু তা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে—নিজেদের লোকজনের হাতে নিহত হওয়ার আশঙ্কায়। একইসঙ্গে তারা আমাদের হাতেও নিহত হওয়ার ভয় করছে।’

    এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া শর্তগুলোয় ইরান রাজি হবে বলে ইসরায়েল সন্দিহান। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা কোনো ধরনের ছাড় দিতে পারে—এ নিয়েও তাদের উদ্বেগ রয়েছে।

    একটি সূত্র জানায়, যেকোনো চুক্তিতে ইসরায়েল চায় তাদের ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলার বিকল্পটি যেন বজায় থাকে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ায় বাড়তে পারে জ্বালানি সংকট ও অস্থিরতা

সর্বশেষ খবর অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে গতকাল প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এর বদলে পাল্টা নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশটি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

এ যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির দুই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দিয়েছেন। তাদের মতে, এতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ, ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর জবাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে ইরান নিজস্ব পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, তাদের কর্মকর্তাদের হত্যা বন্ধ করতে হবে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের ‘পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’ স্বীকার করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে হঠাৎ দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বড় অগ্রগতি হচ্ছে—যা এরই মধ্যে অস্পষ্ট হয়ে ওঠা যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে নতুন বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং ‘পূর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় আবারো ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে দেড় হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। দুই দেশের একাধিক এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ইসরায়েলে ১৬ জন এবং ১৩ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রে বেশ কিছু বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। লেবানন ও ইরানে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র: এপি

আরও