যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এশিয়ায় বাড়তে পারে জ্বালানি সংকট ও অস্থিরতা
সর্বশেষ খবর অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে গতকাল প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এর বদলে পাল্টা নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশটি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে।
এ যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির দুই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দিয়েছেন। তাদের মতে, এতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ, ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর জবাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে ইরান নিজস্ব পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, তাদের কর্মকর্তাদের হত্যা বন্ধ করতে হবে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের ‘পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’ স্বীকার করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে হঠাৎ দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বড় অগ্রগতি হচ্ছে—যা এরই মধ্যে অস্পষ্ট হয়ে ওঠা যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে নতুন বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং ‘পূর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় আবারো ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে দেড় হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। দুই দেশের একাধিক এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ইসরায়েলে ১৬ জন এবং ১৩ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থল ও সমুদ্রে বেশ কিছু বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। লেবানন ও ইরানে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সূত্র: এপি