লিবিয়ায় গণকবরে পাওয়া গেল ৬৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ

দক্ষিণ-পশ্চিম লিবিয়ায় আবিষ্কৃত একটি গণকবরে অন্তত ৬৫টি মরদেহ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা।

দক্ষিণ-পশ্চিম লিবিয়ায় আবিষ্কৃত একটি গণকবরে অন্তত ৬৫টি মরদেহ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। গত সপ্তাহে গণকবরটি আবিষ্কৃত হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গণকবরটি খুঁজে পায় লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বলছে, মৃতরা অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। করুণ এ মৃত্যুকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে বলা হয়, ওই ব্যক্তিদের মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতি ও কারণ অজানা রয়ে গেছে। আইওএম জানিয়েছে, এ অভিবাসীরা কীভাবে নিহত হয়েছেন এবং তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে সম্ভবত তাদের এ মরুভূমির মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পাচার করার উদ্দেশ্যে। 

এক বিবৃতিতে আইওএমের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় আইনগত উপায়ে অভিবাসন কতটা জরুরি। এ অভিবাসীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে শনাক্তকরণ এবং হস্তান্তরের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

২০১১ সালে ন্যাটোর হামলা ও পশ্চিমা ব্লক সমর্থিত বিদ্রোহী গ্রুপের সঙ্গে সংঘাতের পর ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। এরপর গত এক দশকে দেশটির পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হয়েছে। এ সহিংস অস্থিতিশীলতার মাঝে মানব পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ ভূমিতে পরিণত হয়েছে লিবিয়া। পাচারকারী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর নির্যাতনসহ নানা ধরনের অমানবিক কাজে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

লিবিয়া কর্তৃপক্ষ গণকবর নিয়ে তদন্ত শুরু করায় তাদের প্রশংসা করেছে আইওএম। মৃত অভিবাসীদের দেহাবশেষের ‘মর্যাদাপূর্ণ পুনরুদ্ধার, শনাক্তকরণ, স্থানান্তর নিশ্চিত এবং পরিবারকে অবহিত ও সহায়তা করার’ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে মানব পাচারকারীদের বহুল ব্যবহৃত একটি পথ হলো লিবিয়া। এ মাসের শুরুর দিকেই লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়া একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৬০ জন অভিবাসী নিহত হয়েছিল। গত বছর সারা বিশ্বে অন্তত ৮ হাজার ৫৬৫ জন নিহত হয়েছে অবৈধ উপায়ে অভিবাসন করতে গিয়ে, জানিয়েছে আইওএম।

আরও