টানা প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর দুই দেশের গণমাধ্যমই যুদ্ধবিরতি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির।
সোমবার (২৩ জুন) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক চললে আমি ইসরায়েল ও ইরান—দুই দেশকেই অভিনন্দন জানাতে চাই তাদের সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার জন্য। এই যুদ্ধে অবসান ঘটানো উচিত, এবং একে ১২ দিনের যুদ্ধ বলেই ডাকা উচিত।‘
তার ঘোষণা অনুসারে ঘোষণা দেয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সে হিসেবে, রাত ১২টা (ইস্টার্ন টাইম) নাগাদ যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা।
এর ঠিক কিছু সময় পর, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি শিরোনামে জানায়, “ইসরায়েল অধিকৃত এলাকায় ইরানের চার দফা হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।” ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক লাইনের বার্তায় জানায়, যুদ্ধবিরতি এখন “বাস্তবায়নের পর্যায়ে” প্রবেশ করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও ওয়াইনেট-ও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া একধাপ এগিয়ে দাবি করেছে, এই যুদ্ধবিরতি “শত্রুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে”, যদিও সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেনি তারা।
যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। তিনি আরো বলেন, তবে ইসরায়েল যদি তেহরানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর ৪টার মধ্যে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের অবৈধ হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমরা আর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখি না।
সিএনএন বলছে, ইরান ও ইসরায়েলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঠিক কখন এবং কী শর্তে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা আসেনি। এ নিয়ে কোনো দেশই এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।