যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদে হামলা হয় গত সপ্তাহে। ওই সময় হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত এক নিরাপত্তারক্ষী ও আরো দুই ব্যক্তির শেষ যাত্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ একটি পার্কে জড়ো হন। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুসারে, গতকাল অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিতে নারী-পুরুষ এবং ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ কর্মকর্তারাও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান। শোকাহতরা নিহত তিনজনকে ‘বীর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাদের মতে, হামলাকারীদের আটকে রাখা ও মনোযোগ ভিন্ন দিকে সরিয়ে দিয়ে তারা আরো বড় রক্তপাত ঠেকাতে সক্ষম হন। ওই সময় মসজিদের স্কুলে শিশুরা অবস্থান করছিল।
নিহত আমিন আবদুল্লাহ (৫১), মনসুর কাজিহা (৭৮) ও নাদির আওয়াদ (৫৭)-এর মরদেহ সাদা ছাউনির নিচে কাপড় ও জায়নামাজে ঢেকে রাখা হয়।
জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে থাকেন। শহরের নদী ও একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের মাঝখানে অবস্থিত পার্কটিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় মসজিদের ইমাম তাহা হাসানে বলেন, ‘আজকের দিনটি সবার জন্য একটি বার্তা। আমাদের সম্প্রদায় আঘাত পেয়েছে, কিন্তু আমরা এখনো দৃঢ় ও অটল আছি।’
তিনি জানান, জানাজায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসেছেন।
এফবিআই এ ঘটনাকে সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এমন এক সময়ে হামলার এ ঘটনা ঘটল যখন ইসলামবিদ্বেষ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহতদের পরিচিত রুবা আবু জামাহ মুসলিমবিদ্বেষমূলক ঘৃণার অবসানের আহ্বান জানান। তার বিশ্বাস, এ ঘৃণাই হামলাকারীদের প্ররোচিত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আত্মহত্যাপ্রবণ বলে পুলিশকে সতর্ক করার পরও কেন সন্দেহভাজন কিশোর হামলাকারীদের একজনের মা তাকে অস্ত্রের নাগাল পেতে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘খোদার দোহাই, আমরা কেন পিছনের দিকে যাচ্ছি? ঘৃণা আমাদের পিছিয়ে দেয়। যদি জানেন আপনার ১৬ বছর বয়সী সন্তান হতাশাগ্রস্ত, তাহলে ঘরে অস্ত্রের প্রদর্শনী সাজিয়ে রাখবেন না।’
পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ হামলাকারী দুই কিশোরের সঙ্গে গোলাগুলির সময় রেডিও ব্যবহার করে লকডাউন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন এবং সেখানেই নিহত হন।
মসজিদ কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণকর্মী ও রাঁধুনি মনসুর কাজিহা এবং কেন্দ্রের বিপরীতে বসবাসকারী নাদির আওয়াদ গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন। আওয়াদের স্ত্রী ওই কেন্দ্রে শিক্ষকতা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহর প্রতিরোধ হামলাকারীদের কেন্দ্রটিতে ঢুকতে বিলম্ব ঘটায়। সে সময় ১৪০ শিক্ষার্থী আলমারি ও বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে প্রাণ রক্ষা করে।
পরে হামলাকারীরা গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। পরে ওই গাড়িতে তারা আত্মহত্যা করে।
নিরাপত্তারক্ষীর ছেলে খালেদ আবদুল্লাহ (২৪) বলেন, ‘তিনি সামনের সারিতে থেকে শিশু ও নিরীহ মানুষদের রক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন—এটা আমাকে গর্বিত করে। তাকে বীর বলা আমাদের ন্যূনতম দায়িত্ব।’