দক্ষিণ কোরিয়ার হানওয়াকে স্থানীয় জাহাজ নির্মাতা অস্টালে অংশীদারত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তবে একই সঙ্গে বিদেশী কোম্পানিটির ক্ষমতা সীমিত করার শর্তও বজায় রেখেছে। এর লক্ষ্য, অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কোম্পানির ওপর বিদেশী সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি না আসা। তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক চলছে। খবর এফটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সংস্থা হানওয়া। দুই বছরে অস্টালকে কিনতে একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে তারা। গত মার্চে অস্টালের ৯ দশমিক ৯ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নেয় হানওয়া। তখন জানানো হয়, এ অংশীদারত্ব দ্বিগুণ অর্থাৎ ১৯ শতাংশের বেশি করার সুযোগ রয়েছে। তবে একে পুরোপুরি অস্টাল অধিগ্রহণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
পদক্ষেপটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অস্টালের মার্কিন ব্যবসা আলাদা করতে পারে হানওয়া। অথচ এ অংশ থেকে আসে কোম্পানির বেশির ভাগ আয়। একই সঙ্গে স্থানীয় কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে হানওয়া। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় অস্টাল।
পার্থের দক্ষিণে অবস্থিত অস্টালের হেন্ডারসন শিপইয়ার্ড। এটি জাপানের মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা খাতে হানওয়ার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মিৎসুবিশি। বর্তমান পরিস্থিতি ক্যানবেরাকে কিছু বিষয় ভাবতে বাধ্য করেছে। যেমন হানওয়াকে অস্টালের নিয়ন্ত্রণ দেয়া জাতীয় স্বার্থের অনুকূল হবে কিনা। হানওয়া এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত হলেও কোনো ফ্রিগেট চুক্তি পায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্স গতকাল জানিয়েছে, ফরেন ইনভেস্টমেন্ট রিভিউ বোর্ডের সুপারিশ মেনে অস্টালে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারত্ব বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন হানওয়াকে। তবে সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কোরিয়ান কোম্পানিকে কিছু শর্তের মধ্যে থাকতে হবে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবেদনশীল তথ্যে হানওয়ার প্রবেশ সীমিত করা এবং অস্টালের বোর্ডে কোনো প্রতিনিধি বসানোর ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ। জিম চালমার্স বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত হালকাভাবে নেয়া হয়নি। কারণ অস্টাল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রস্তাবের অধীনে হানওয়া সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে থাকবে। কোম্পানি ১৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি অংশীদারত্ব বাড়াতে পারবে না।’
অবশ্য হানওয়া উল্লেখিত সীমার ওপরে অংশীদারত্ব বাড়ানোর জন্য আবেদন করেনি। বিশ্লেষকরাও জিম চালমার্সের বক্তব্যকে একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ সরকার চায় অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণেই থাকুক অস্টাল।
প্রতিরক্ষা খাতের বিশ্লেষক ও ব্যারিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরির প্রতিষ্ঠাতা জেনিফার পার্কার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে হানওয়ার অংশীদারত্ব এ সীমার বেশি বাড়ানো উচিত নয়। এতে বড় প্রতিরোধ দেখা দেবে।’
অস্টালের প্রধান নির্বাহী প্যাডি গ্রেগ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী চালমার্স যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা তাকে সম্মান করি।’
অস্টাল জানিয়েছে, হানওয়া এখনো বোর্ডের পদের জন্য আবেদন বা অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেয়নি। ডিজাইন পার্টনার, জাতীয় নিরাপত্তা চাহিদা ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে তারা যেকোনো প্রস্তাব সাবধানে মূল্যায়ন করবে।
জেনিফার পার্কার জানিয়েছে, অস্টালের অংশীদারত্ব বাড়ানোর অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্তে ‘হতবাক’ হয়েছেন তিনি। কারণ আগামী দশকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে অস্টাল।
অস্টালের পার্থ শিপইয়ার্ডে শিগগিরই আড়াই হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। এতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো উল্লেখ করে জেনিফার পার্কার বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি আমরা।’