ধ্বংসের ছাপ রেখে নিঃশেষের পথে ‘মেলিসা’, ক্যারিবিয়ানে অন্তত ৫০ প্রাণহানি

পশ্চিম ক্যারিবীয় অঞ্চলে আনুমানিক ৪৮ বিলিয়ন থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি ও অর্থনৈতিক লোকসান হতে পারে

মেলিসা জ্যামাইকায় আঘাত হানে মঙ্গলবার, ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে — যা ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি–৫ মাত্রারও ওপরে। কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন, এবং সরকার জরুরি খাদ্য বিতরণ শুরু করেছে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'মেলিসা' অবশেষে দুর্বল হতে শুরু করেছে। এর আগে জ্যামাইকা, কিউবা এবং হাইতিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটিয়ে গেছে এই প্রলয়। ক্যারিবীয় অঞ্চলে স্থলভাগে আঘাত হানা ঝড়গুলোর মধ্যে মেলিসা ছিল অন্যতম শক্তিশালী। খবর রয়টার্স।

মেলিসার আঘাতের ফলে পশ্চিম ক্যারিবীয় অঞ্চলে আনুমানিক ৪৮ বিলিয়ন থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি ও অর্থনৈতিক লোকসান হতে পারে বলে অনুমান করেছে মার্কিন পূর্বাভাস সংস্থা অ্যাকুওয়েদার।

মেলিসা জ্যামাইকায় আঘাত হানে মঙ্গলবার, ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে — যা ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি–৫ মাত্রারও ওপরে। জামাইকার তথ্য মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন, এবং সরকার জরুরি খাদ্য বিতরণ শুরু করেছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি জানান, পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ফালমাউথ শহরের অবস্থায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো। আদালত ভবন, পৌরসভা, সড়ক ও অবকাঠামো সবই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ক্যারিবীয় পরিচালক ব্রায়ান বগার্ট ব্ল্যাক রিভার এলাকা পরিদর্শনের পর পরিস্থিতিকে 'অ্যাপোক্যালিপ্টিক' বলে বর্ণনা করে বলেন, মনে হচ্ছে যেন একটি বোমা পড়েছে, মানুষ এখনো হতবাক।

ক্যারিবিয়ান জুড়ে ধ্বংসের চিহ্ন। ছবি- রয়টার্স

ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি হাইতিতে আঘাত না হানলেও, এর ধীর গতির কারণে টানা কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাইতি সরকার অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ২০ জন এখনো নিখোঁজ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় পেতি-গোয়াভে শহরে একটি নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় ১০ শিশুসহ অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাইতির ট্রানজিশনাল প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান বলেন, প্রচুর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, খেতখামার ডুবে গেছে এবং বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সরকার বন্যা এবং পানিবাহিত রোগের কারণে কলেরা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে।

মেলিসা কিউবায় ক্যাটাগরি-৩ হারিকেন হিসেবে আঘাত হানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর দেয়নি। তবে হাজার হাজার মানুষকে আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সেখানেও রাস্তা, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়গুলো দ্রুত এবং আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ক্যারিবীয় অঞ্চলের নেতারা ধনী ও দূষণকারী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ত্রাণ বা ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা পর্যন্ত মেলিসা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৫ মাইল (১৩৭ কিমি) বাতাসের গতি নিয়ে একটি পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আইসল্যান্ড এবং ফারো দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

আরও