আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের লেখা বই নিষিদ্ধ করেছে তালেবান

তালেবান সরকার জানিয়েছে, আফগান সংস্কৃতি ও ইসলামি আইনের সঙ্গে মিল রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক জিয়াউর রহমান আরিউবি বলেন, ধর্মীয় আলেম ও বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি পাঠ্যক্রম পরীক্ষা করে এসব সুপারিশ করেছেন।

আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নারীদের লেখা বই পড়ানো নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, নারী লেখকের কোনো বই পাঠ্যক্রমে রাখা যাবে না। পাশাপাশি মানবাধিকার ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক পড়াশোনাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৪০টি নারী লেখকের বইসহ মোট ৬৮০টি গ্রন্থকে ‘শরিয়াহবিরোধী’ ও ‘নীতির পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছে তালেবান সরকার। এসব বইয়ের মধ্যে রসায়ন ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা নিয়ে লেখা একটি বইও ছিল। একই নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮টি বিষয় পড়ানো বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সরাসরি নারীদের ভূমিকা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়। এর মধ্যে ‘জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’, ‘উইমেন’স সোসিওলজি’ ও ‘দ্য রোল অব উইমেন ইন কমিউনিকেশন’ রয়েছে।

তালেবান সরকার জানিয়েছে, আফগান সংস্কৃতি ও ইসলামি আইনের সঙ্গে মিল রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক জিয়াউর রহমান আরিউবি বলেন, ধর্মীয় আলেম ও বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি পাঠ্যক্রম পরীক্ষা করে এসব সুপারিশ করেছেন।

নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় সাবেক উপ-আইনমন্ত্রী জাকিয়া আদেলির বইও রয়েছে। তিনি বলেন, তালেবান গত চার বছরে যা করেছে, তাতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা আশ্চর্যের কিছু নয়। যখন নারীদের পড়াশোনার সুযোগই নেই, তখন তাদের লেখা ও মতামতও দমন স্বাভাবিক ঘটনা বলা যায়।

নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকায় বিপুলসংখ্যক ইরানি লেখক ও প্রকাশকের বইও রয়েছে। মোট ৩১০টি বই ইরান থেকে প্রকাশিত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনায় আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কারণ আন্তর্জাতিক জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে সংযোগের অন্যতম মাধ্যম এসব বই।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, এখন তারা নিজেরাই পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তা আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

আফগানিস্তানে নারীশিক্ষার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ষষ্ঠ শ্রেণীর পর থেকেই মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষদিকে ধাত্রীবিদ্যা কোর্সও বাতিল করা হয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয়েও নারীদের লেখা বই ও নারী-সংক্রান্ত বিষয় বাদ দেয়া হলো।

বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও