ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার কয়েক দিন পরই নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে অসলোর সঙ্গে কারাকাসের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। খবর এপি।
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অসলোতে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে তাদের অবহিত করা হলেও এর কোনো কারণ জানানো হয়নি। নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেসিলি রোয়াং এপিকে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার দূতাবাস তাদের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু কোনো কারণ বলা হয়নি। এটি দুর্ভাগ্যজনক। বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নরওয়ে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।‘
স্থানীয় সংবাদপত্র ভার্ডেন্স গ্যাং প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। সোমবার বিকালের পর থেকে দূতাবাসটির ফোন নম্বরগুলো অকার্যকর দেখা যায়।
গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই পুরস্কার ঘোষণার পরপরই চরম প্রতিক্রিয়া দেখান। রোববার আমেরিকা’স ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি মাচাদোর নাম উল্লেখ না করেই ৫৮ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ীকে 'রাক্ষুসে ডাইনি' বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, এবং আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করবই। তবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে শান্তি।‘
২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও বিরোধী দল ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনেছিল। ওই নির্বাচনে মাচাদোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।