ডব্লিউএমও প্রতিবেদন

বৈশ্বিক উষ্ণতার গুরুতর সীমা লঙ্ঘনের আশঙ্কা

তাপ আটকে রাখা দূষণ ও এল নিনোর প্রভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সীমা লঙ্ঘন হতে পারে। এ তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড মেট্রলজিক্যাল অরগানাইজেশন বা ডব্লিউএমও

তাপ আটকে রাখা দূষণ ও এল নিনোর প্রভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সীমা লঙ্ঘন হতে পারে। এ তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড মেট্রলজিক্যাল অরগানাইজেশন বা ডব্লিউএমও। খবর সিএনএন।

কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সাম্প্রতিক বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা ধীর হওয়ার কোনো লক্ষণই আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

ডব্লিউএমও বার্ষিক জলবায়ু প্রতিবেদনে বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প স্তরের উষ্ণতার চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠার আশঙ্কা ৬৬ শতাংশ।

তাপমাত্রার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গ্রহের রেকর্ড উষ্ণ দেখার আশঙ্কা ৯৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি অস্থায়ী হতে পারে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, চরম আবহাওয়া বৃদ্ধি ও অত্যাবশ্যক বাস্তুতন্ত্রের বিলোপ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন কত দ্রুত হচ্ছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প স্তরের তুলনায় ২ ডিগ্রির নিচে বা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে আটকে রাখার কথা বলে আসছিলেন। ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিকে বিজ্ঞানীরা উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন। যা অতিক্রম করলে চরম বন্যা, খরা, দাবানল ও খাদ্য সংকট নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ডব্লিউএমও সেক্রেটারি-জেনারেল পেটেরি তালাস বলেন, প্রতিবেদনের অর্থ এই নয় যে আমরা স্থায়ীভাবে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্তর অতিক্রম করব। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নকে বোঝায়।

আরো বলেন, সামনের মাসগুলোতে এল নিনোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে অনির্ণিত অঞ্চলে ঠেলে দেবে। স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। যার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

বর্তমান রেকর্ড অনুসারে উষ্ণতম বছর হলো ২০১৬ সাল। যা খুব শক্তিশালী এল নিনোকে অনুসরণ করেছিল। এল নিনো শুরুর পরের বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। এ কারণে ২০২৪ সালে রেকর্ড উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এরই মধ্যে পৃথিবীর উষ্ণতা প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির যথেচ্ছ ব্যবহার ও তাপ আটকে রাখা এই দূষণের কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার আশঙ্কা ২০১৫ সাল থেকে ক্রমাগত বেড়েছে। যদিও ডব্লিউএমও এই মাত্রা লঙ্ঘনের আশঙ্কা শূন্যের কাছাকাছি রেখেছিল।

আরও