বৈশ্বিক ডিজেল সংকট, ইউক্রেনকে রুশ শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বললেন ট্রাম্প

কিয়েভের বক্তব্য হলো, রাশিয়ার তেল খাত কেবল মস্কোর অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখছে না, বরং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সামরিক বাহিনীকে সরাসরি অর্থ জোগাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে তীব্র ডিজেল সংকট তৈরি হচ্ছে—এমন বাস্তবতা উল্লেখ করে রাশিয়ার জ্বালানি তেল শোধনাগার ও ডিজেল উৎপাদন-সরবরাহকারী অবকাঠামোগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবারে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য রেকর্ড গড়ে প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প গতকাল রোববার এ আহ্বান জানান। খবর এনবিসি নিউজ

ইউক্রেন গত কয়েক মাস ধরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস শিল্পকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি রপ্তানিকারক রাশিয়াকেই অভ্যন্তরীণ গ্রাহকের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং করতে হয়েছে। এমনকি গত জুলাই মাসে ডিজেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হয় মস্কো। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত এ জ্বালানির সরবরাহ আরো সংকুচিত হয়ে পড়ে। তবে শুধু ইউক্রেনের হামলা একমাত্র কারণ নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার ফলে এই বৈশ্বিক সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

নিজ মালিকানাধীন ডুনবেগ গলফ ক্লাবে আয়োজিত 'আইরিশ ওপেন' টুর্নামেন্টের ফাঁকে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেয়া বন্ধ করতে হবে। আমরা এ নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছি। আঘাত হানার মতো আরো প্রচুর লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। ডিজেল (উৎপাদন) কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবেন না, কারণ এটি গোটা বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) গত শুক্রবারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে গত আগস্টে ডিজেল ও গ্যাস-অয়েলের নিট রপ্তানি— গেল ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিমাণের "এক-চতুর্থাংশের সামান্য বেশি" পর্যায়ে নেমে এসেছে।

সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, "ইউক্রেনের জোরালো হামলার পর রাশিয়ার শোধনাগার ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং সেখান থেকে পরিশোধিত পণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া—এই ঘাটতিকে আরও বহুমুখী ও জটিল করে তুলেছে।" আইইএ উল্লেখ করে, গত ফেব্রুয়ারিতেও বিশ্বের মোট সামুদ্রিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ৪৫ শতাংশই আসত উপসাগরীয় অঞ্চল ও রাশিয়া থেকে।

তবে কিয়েভের বক্তব্য হলো, রাশিয়ার তেল খাত কেবল মস্কোর অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখছে না, বরং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সামরিক বাহিনীকে সরাসরি অর্থ জোগাচ্ছে।

আরও