কংগ্রেসে জবানবন্দি

এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো দেখা হয়েছে কি-না মনে নেই হিলারির

হিলারি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো তার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। কখনো তার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে চড়েননি কিংবা নিজস্ব দ্বীপ, বাড়ি বা অফিসেও যাননি

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের দাবি, কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো দেখা হয়েছে কি-না তার মনে নেই। গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। আরো জানান, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলার মতো কোনো তথ্য তার কাছে নেই। খবর রয়টার্স।

নিউইয়র্কের চাপ্পাকুয়ায় হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ওভারসাইট কমিটির কাছে গোপনে জবানবন্দি দেন হিলারি। সেখানে তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো তার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। কখনো তার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে চড়েননি কিংবা নিজস্ব দ্বীপ, বাড়ি বা অফিসেও যাননি।

প্যানেলে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর হিলারি সাংবাদিকদের জানান, সারাদিন তাকে বারবার একই প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কমিটিকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি সাবেক এ ফার্স্টলেডি।

হিলারি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের শেষের দিকে পরিস্থিতি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু তথা ইউএফও এবং ‘পিৎজাগেট’ কেলেংকারির মতো ‘জঘন্য ও ভিত্তিহীন’ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা নিয়ে অভিযোগ তোলেন তিনি।

মূলত ২০১৬ সালে হিলারির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ডিসির একটি পিৎজা রেস্তোরাঁকে ব্যবহার করে শিশু পাচারচক্রের বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়। এমনও শোনা যায়, পরে ওই চক্রের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় নিউইয়র্ক পুলিশ।

পাশাপাশি হিলারি তার লিখিত সাক্ষ্যে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে সম্পর্ক ছিল, তা থেকে নজর সরাতেই এ প্যানেল চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক যৌন পাচার রোধে কাজ করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি শাখাকে অকার্যকর করে দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।

এদিকে হিলারির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে প্যানেলের সামনে হাজির করার বিষয়টি নাকচ করে দেন হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার।

এ রিপাবলিকান প্রতিনিধি বলেন, এপস্টেইন ইস্যুতে হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ডোনাল্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি নথি প্রকাশের ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছেন।

হিলারি ক্লিনটনের পর আজ কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তার স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

হিলারি এরই মধ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে অপরাধ স্বীকার করার আগে এপস্টেইনের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ ছিল, তাদের অধিকাংশই এ যৌন অপরাধীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না। বিল ক্লিনটন ঠিক এ বিষয়েই কমিটিতে সাক্ষ্য দেবেন।

এর বিপরীতে কোমার বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে হিলারির কোনো যোগাযোগ ছিল কি-না, ক্লিনটনদের দাতব্য কার্যক্রমে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি-না এবং কারাগারে থাকা সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে হিলারির কোনো সম্পর্ক ছিল কি-না এসব বিষয়ে কমিটি তথ্য খুঁজবে। সঙ্গে ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষাৎকার এবং ভিডিও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

ক্ষমতা ছাড়ার পর বিল ক্লিনটন বেশ কয়েকবার এপস্টেইনের উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছেন, এমন তথ্য রয়েছে। তবে তিনি কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।

কোমারের তথ্যমতে, ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এপস্টেইন ১৭ বার হোয়াইট হাউজে গিয়েছিলেন। বিচার বিভাগও তাদের প্রকাশিত নথিতে ক্লিনটনের ছবির দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল।

কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সাক্ষ্য দেয়া উচিত। কারণ লুটনিক প্রথমে বলেছিলেন তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কিন্তু এর কয়েক বছর পরেও তিনি এপস্টেইনের দ্বীপে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে গার্সিয়া ও অন্য ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পকে রক্ষা করতেই বিচার বিভাগ এপস্টেইনের ৩০ লাখ প্রকাশিত নথি থেকে বেছে বেছে কিছু তথ্য গোপন করেছে। গার্সিয়া বলেন, এর মধ্যে এমন এক নারীর রেকর্ড আছে, যিনি অভিযোগ করেছিলেন নাবালিকা অবস্থায় ট্রাম্পের যৌন নির্যাতের শিকার হয়েছিলেন।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো নথি অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে কি-না, তা তারা পর্যালোচনা করে দেখছে এবং উপযুক্ত মনে হলে সেগুলো প্রকাশ করা হবে।

আরও