ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ‘অলৌকিক’ উদ্ধার

জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় (ইউএনডিএসি) দলের সদস্য সেবাস্তিয়ান মোকোরকের গতকাল বলেন, ভূমিকম্পের সাত দিন পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সাধারণত ‘অলৌকিক’ বলেই বিবেচিত হয়। ভূমিকম্পের পর জীবিত মানুষ উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়, যা সাধারণত প্রথম তিন দিন। এ সময়ের পর পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়

শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় বিধ্বস্ত একটি নয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ উদ্ধার অভিযানে তাকে জীবিত বের করে আনাকে ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দেয়া হচ্ছে। খবর সিএনএন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। তিনি লা গুয়াইরার লেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের পার্কিং ভবন ধসে পড়ার পর প্রায় ২৯ ফুট গভীরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের কয়েক দিনব্যাপী সূক্ষ্ম ও জটিল অভিযানের পর গতকাল তাকে উদ্ধার করা হয়।

চল্লিশোর্ধ্ব হার্নান গিল ওই শপিংমলে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চিলির ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হলেও তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

চিলির ফায়ার ব্রিগেড এক বিবৃতিতে জানায়, তাকে উদ্ধারে ৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। পরে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া ভেনেজুয়েলার রেড ক্রসের প্যারামেডিক লুইস রদ্রিগেস ঘটনাস্থল থেকে রয়টার্সকে বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় হার্নান স্থিতিশীল ছিলেন। পুরো পথজুড়ে তিনি সচেতন ছিলেন, পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন এবং সহযোগিতা করছিলেন। তার সব গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচকও স্বাভাবিক ছিল।’

উদ্ধারের ঠিক আগে হার্নানের স্ত্রী গুসভিমার গনসালেস সিএনএনকে বলেন, ভূমিকম্পের পর কয়েক দিন ধরে ভেবেছিলেন তার স্বামী হয়তো আর বেঁচে নেই।

তিনি বলেন, ‘এগুলো ছিল গভীর দুঃখের কয়েকটি দিন। কিন্তু যখন জানতে পারলাম তিনি জীবিত আছেন, তখন যেন আশার আলো দেখতে পেলাম। তিনি একজন বীরের মতো লড়ে গেছেন।’

চিলি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার ধসে পড়া ভবনের বেজমেন্টে অনুসন্ধান ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে উদ্ধারকারীরা প্রথমবারের মতো হার্নানের অবস্থান নিশ্চিত করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মোটা কংক্রিটের স্তর ও ধ্বংসাবশেষের মাঝের একটি ছোট ফাঁক দিয়ে তার হাতের আঙুল নড়ছে।

জরুরি সেবাকর্মীরা জানান, তারা হার্নানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পানি, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করছিলেন। একটি নল ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার কাছে তরল খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেয়া হচ্ছিল।

গতকাল প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে হার্নানের মাথা ও কাঁধ বেরিয়ে এসেছে। তার মুখে একটি মাস্ক ছিল এবং একটি চোখ রক্তাভ দেখা যাচ্ছিল।

চিলির ফায়ার ডিপার্টমেন্ট উদ্ধার অভিযানটিকে ‘অত্যন্ত জটিল’ বলে উল্লেখ করেছে। কারণ ভবনটি তখনো অস্থিতিশীল ছিল এবং উদ্ধারকর্মীদের ওপর ধ্বংসাবশেষ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল।

জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় (ইউএনডিএসি) দলের সদস্য সেবাস্তিয়ান মোকোরকের গতকাল বলেন, ভূমিকম্পের সাত দিন পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সাধারণত ‘অলৌকিক’ বলেই বিবেচিত হয়।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর জীবিত মানুষ উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়, যা সাধারণত প্রথম তিন দিন। এ সময়ের পর পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।

ভূমিকম্পের আট দিন পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস।

গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুই ভূমিকম্প। পরপর ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আরও