কানাডার সীমান্তে অবরোধ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে : যুক্তরাষ্ট্র

কানাডার সরকারের জারি করা পাঁচ দিনের শাটডাউন ও সীমান্তে ট্রাক চালকদের অবরোধ দুই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার। নিজ দেশের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন তিনি।

কানাডার সরকারের জারি করা পাঁচ দিনের শাটডাউন ও সীমান্তে  ট্রাক চালকদের অবরোধ দুই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার। নিজ দেশের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন তিনি।

কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ট্রাক চালকদের অবরোধে বন্ধ রয়েছে উত্তর আমেরিকার ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর। কানাডার সর্বদক্ষিণের নগরী উইন্ডসর সেতুর মাধ্যমে দুই দেশে আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। স্থল বন্দরটি দিয়ে নিজেদের মোট রফতানির ৭৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় কানাডা। পণ্য সরবরাহের মূল মাধ্যম অবরোধকৃত সেতু। দৈনিক প্রায় ৮ হাজার ট্রাক যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে। যা সমস্ত আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের এক চতুর্থাংশ।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অ্যাম্বাসেডর সেতু অবরোধ করে ট্রাক চালকরা। বন্ধ করে দেয়া হয় আরো দুটি ছোট সীমান্ত ক্রসিং। যে কারণেই দুই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার।

তিনি বলেন, কানাডায় ট্রাক চালকদের টিকা বিরোধী বিক্ষোভে এক ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। এর সমাধানে দেশটিকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সমস্যার দ্রুত ও নিরাপদ সমাধান করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই দেশটির সরকারকে করতে হবে।

বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, চলমান অবরোধ শেষ করতে তিনি পৌর নেতাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রী মার্কো মেন্ডিসিনো বলেছেন, রাজধানী অটোয়া ও সর্বদক্ষিণের শহর উইন্ডস'র সেতুর কাছে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে। মূলত, অবরোধের অবসান ঘটাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত মাসে করোনার বিধি-নিষেধ কড়াকড়ি করে কানাডা সরকার। এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় আসা ট্রাকচালকদের কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া তাদের পূর্ণাঙ্গ ডোজ টিকা নিতেও বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৯ জানুয়ারি থেকে ফ্রিডম কনভয় নামে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা পুরো কানাডায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয় রাজধানী অটোয়ায়। এ ছাড়া বৃহত্তম শহর টরোন্টো, কুইবেক সিটি, ফ্রেডেরিকটন এবং উইনিপেগেও বহু মানুষ বিক্ষোভ করে। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরকারের ভ্যাকসিন নীতির কঠোর সমালোচনাও করে তারা। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

আরও