ছেড়ে দেয়া হয়েছে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে, তদন্ত চলবে

অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার প্রতিক্রিয়ায় তার বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, আইনকে অবশ্যই নিজস্ব গতিতে চলতে হবে এবং পুলিশকে পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়া হয়েছে

সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে। খবর বিবিসি।

গতকাল সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে, টেমস ভ্যালি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে অ্যান্ড্রুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নরফোকে তাদের তল্লাশিও শেষ হয়েছে।

আইলসহ্যাম থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাবেক রাজপুত্র অ্যান্ড্রুকে গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতে দেখা গেছে।

এর আগে টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছিল, নরফোক থেকে ‘৬০ বছর বয়সী একজনকে গ্রেফতার করেছে’ এবং বার্কশায়ার ও নরফোকের ঠিকানাগুলোতে তল্লাশি চলছে।

অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার প্রতিক্রিয়ায় তার বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, ‘আইনকে অবশ্যই নিজস্ব গতিতে চলতে হবে এবং পুলিশকে পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।’

পুলিশ আগে বলেছিল যে তারা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তের কথা বিবেচনা করছে এবং গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগ পর্যালোচনা করছে।

এই প্রথম অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হলো। যদিও কোনো অন্যায় কাজ করার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে দাবি করার হয়েছিল, একটি পৃথক অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে যেখানে ২০১০ সালে এপস্টিন আরেকজন নারীকে অ্যান্ড্রুর সাথে যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। ওই নারীর বয়স তখন ২০ এর কোটায় ছিল এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।

ইয়র্কের সাবেক ডিউক অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করেছেন। ওই সময় বিশ্বজুড়ে ঊর্ধ্বতন সরকারি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর এবং চীন সফরের সরকারি প্রতিবেদন এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।

প্রকাশিত নথি অনুসারে, আফগানিস্তানে সোনা ও ইউরেনিয়ামে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।

ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় বাণিজ্য দূতদের সরকারি সফর সম্পর্কে সংবেদনশীল, বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

সাবেক রাজপুত্র অ্যান্ড্রু এর আগে ভার্জিনিয়া জিউফ্রের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়েছিল।

ওই সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, ২০০০ সালের শুরুর দিকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসসহ বেশ কয়েকবার তাকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

যদিও দুজনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়েছিল সেখানে অ্যান্ড্রুর পক্ষ থেকে কোনো অন্যায়ের কথা স্বীকার করা হয়নি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রাজ পরিবারের জন্য "ক্ষতির কারণ" হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে ২০১৯ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান অ্যান্ড্রু।

২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের হলে নিজের সামরিক উপাধি এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতাও হারান তিনি।

২০২৫ সালের অক্টোবরে অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়, একই মাসে গিফ্রের মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশিত হয় এবং এপস্টিনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে।

আরও