চীনের হুনান প্রদেশের একটি আতশবাজি কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৬১ জন। খবর বিবিসি
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে হুনান প্রদেশের লিউয়াং এলাকার লিউয়াং হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লিউইয়াং শহরটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, পাহাড় ঘেরা একটি গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছে এবং আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানাটির চারপাশে ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর সিসিটিভির ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এক্সকাভেটর দিয়ে সে ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন। অক্ষত থাকা কিছু ভবন থেকেও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই ছাদ উড়ে গেছে। উদ্ধার কাজে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে স্নিফার ডগ, ড্রোন এবং রোবট ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
কারখানা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের পর বড় বড় পাথর রাস্তায় ছিটকে পড়ায় বর্তমানে গ্রামবাসীদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের ঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে, অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেম দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং এমনকি স্টেইনলেস স্টিলের দরজাও বিকৃত হয়ে গেছে। আতঙ্কে অনেক গ্রামবাসী এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের সন্ধানে ও আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হয়েছে।