জেনেভায় অনুষ্ঠিত প্লাস্টিক দূষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বৈঠক শেষ পর্যায়ের আলোচনায় ব্যর্থ হয়েছে। ঐক্যমতের অভাবে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক থেকে বিদায় নিচ্ছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। প্লাস্টিক উৎপাদন কমানো ও প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি চুক্তিতে অর্ন্তভুক্ত থাকবে কি না এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছেন না প্রতিনিধিরা। খবর গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার ছিল আনুষ্ঠানিক আলোচনার শেষ দিন, তবে খসড়া প্রস্তাব সংশোধন নিয়ে কাজ শুক্রবার পর্যন্ত চলছে। চুক্তি তৈরি কমিটির চেয়ার লুইস ভায়াস ভ্যালডিভিসিও জেনেভায় অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে দুটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি ও উপস্থাপন করেছিলেন। তবে ১৮৪ দেশের প্রতিনিধিরা উভয় খসড়াকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
৩৯টি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রের (এসআইডিএস) প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পলাউ। তিনি বলেন, বারবার আলোচনায় মানব ও আর্থিক সম্পদ বিনিয়োগ করা ও যথাযথ অগ্রগতি ছাড়া ফিরে যাওয়া অন্যায়। তার মতে, এসআইডিএস দেশগুলো জলবায়ু সংকটের মূল দায়ভার বহন করছে। চুক্তি ছাড়াই সম্মেলন ত্যাগ করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, টুভালু ও অন্য দেশের প্রতিনিধিরা।
ইউরোপীয় কমিশনার জেসসিকা রসওয়াল বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সদস্য দেশগুলো এই বৈঠক থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করেছিল।
সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রতিনিধি দুটি খসড়াকেই অসম্মানজনক হিসেবে দেখেছেন। তারা বলেন, সর্বশেষ প্রস্তাবটিতে অন্য দেশের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্লাস্টিক উৎপাদনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একে চুক্তির পরিধির বাইরের বিষয় বলে মনে করে সৌদি আরব ও কুয়েত ।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী প্লাস্টিক উৎপাদনের ওপর কোনো সীমা ধার্য করা হয়নি। তবে এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার অসততাপূর্ণ। তাই এটি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আলোচনার মূল দ্বন্দ্ব ছিল, চুক্তি কি নতুন প্লাস্টিক উৎপাদনের ওপর সীমা আরোপ করবে, নাকি ডিজাইন, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের দিকে মনোনিবেশ করবে। প্লাস্টিক উৎপাদনে সীমা নির্ধারণের বিরোধীতা করছে তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী শক্তিশালী দেশগুলো। তারা চায় চুক্তি মূলত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃব্যবহারের দিকে মনোনিবেশ করুক।
প্রতি বছর বিশ্বে ৪০০ মিলিয়ন টনেরও বেশি নতুন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। উৎপাদন নীতি পরিবর্তন না করা হলে ২০৪০ সালের মধ্যে এ সীমা প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। উৎপাদন সীমিত করার পক্ষে রয়েছে শতাধিক দেশ। অনেকের মতে, প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করাও অপরিহার্য।