মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাতে ইসরায়েল তাদের ইতিহাসে আকাশপথে সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালানোর পর শনিবার ভোরে পাল্টা জবাবে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। খবর রয়টার্স।
শনিবার (১৪ জুন) ভোরে তেল আবিব ও জেরুজালেমজুড়ে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা বাজতে থাকে। আতঙ্কে মানুষ বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘গত এক ঘণ্টায় ইরানের দিক থেকে ইসরায়েলের ওপর ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার অনেকগুলো মাঝপথেই প্রতিহত করা গেছে।‘
তবে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। দেশটির জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো বিস্ফোরণস্থলগুলোতে কাজ করছে। তেল আবিবের একটি বহুতল ভবনের নিচের তলাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আশপাশের রামাত গান এলাকার একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, অন্তত একজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
অন্যদিকে, তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানায় আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা। ফার্স নিউজ জানায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। সেখানে রয়েছে ইরানী বিমানবাহিনীর ঘাঁটি। সেখানে আগুন লাগার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
শুক্রবার রাতের ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা, পরমাণু বিজ্ঞানী, সেনা স্থাপনা এবং পারমাণবিক প্রকল্পের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানায় ইসরায়েল। জবাবে শনিবার ইরান ভোররাতে তেল আবিবসহ একাধিক স্থানে একাধিক দফায় পাল্টা হামলা চালায়। ফার্স নিউজ জানায়, শুক্রবার রাতেই প্রথম দুটি দফা হামলার পর শনিবার নতুন করে বড় আকারের হামলা চালায় ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইসরায়েল নাতাঞ্জের বিশাল ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এবং শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান ‘শত শত’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও ইরান তার পরমাণু কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা আইএইএ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় নাতাঞ্জের ওপরে থাকা পাইলট এনরিচমেন্ট প্লান্ট ধ্বংস হয়েছে। সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি নিরাপত্তা পরিষদে জানান, ফোর্ডো ও ইসফাহানেও হামলার বিষয়ে তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ী করে বলেন, ‘ইসরায়েল এখন আর নিরাপদ নয়।‘ জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি দাবি করেন, ইসরায়েলের হামলায় ৭৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩২০ জন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলার জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়ী’ বলে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘তারা হামলায় সরাসরি অংশ না নিলেও দায় এড়াতে পারে না।‘
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘ইরান কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক পারমাণবিক বোমার উপযোগী ইউরেনিয়াম মজুত করে ফেলত। তাই এই হামলা ছিল আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।‘
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান এখনো চাইলে আলোচনায় ফিরে এসে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে।‘