কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মধ্য দিয়ে গত এক দশকে সপ্তম নেতা পেল দেশটির জনগণ। গত সপ্তাহে লেবার পার্টির প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহ্যাম বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
আজ সোমবার সকালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেয়া বিদায়ী বক্তব্যে স্টারমার বলেন, ‘আজ আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে এবং আমার দায়িত্বের অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে এসেছি। আমার কাজ শেষ হয়েছে।’ ব্রিটিশ জনগণকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং উত্তরসূরি বার্নহ্যামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
বক্তব্য শেষে স্টারমার বাকিংহাম প্রাসাদে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে বার্নহ্যাম প্রাসাদে গেলে রাজা তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ডাউনিং স্ট্রিটে দেয়া প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, যুক্তরাজ্যকে আবারও স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি তার নেতৃত্বকে দেশের জন্য একটি ‘সার্কিট-ব্রেকার’ বা নতুন সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল এবং ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, গৃহহীনতা দূর করা, শিল্পায়ন পুনরুজ্জীবিত করা, মৌলিক জনসেবাকে আবারও সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
সোমবারই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে বার্নহ্যামের।
গত জুনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিলেও দ্রুত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তিনি দলীয় ও জনমতের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েন। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি এক হাজারের বেশি কাউন্সিল আসন হারানোর পর দলের বহু সদস্য তার পদত্যাগ দাবি করেন।
-এবিসি নিউজ