তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দর বৃদ্ধির ঘোষণার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল কাজাখস্তানের জনসাধারণ। এ প্রতিবাদ রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী সহিংসতায়। গত সপ্তাহ থেকে দেশটিতে ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে। বিক্ষোভের শুরুর দিন থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। লুটপাট করা হয়েছে একশ’র বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক। প্রায় ৪০০ যানবাহন এসময় ধ্বংস করা হয়েছে।
গতকাল রোববার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে কাজাখস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। খবরে বলা হয়, মধ্য এশিয়ার দেশটির স্বাধীনতার ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে গত কয়েকদিনে। এ সময় দুই শিশুসহ ১৬৪ জন মারা গেছেন। ৫ হাজার ১৩৫ জন আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১২৫টি পৃথক তদন্তের অংশ হিসাবে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দেশটির প্রধান শহর আলমাটিতে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। শহরটিতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জন মারা গেছেন। আল জাজিরা জানায়, আজ সোমবার শহরের সেন্ট্রাল স্কয়ারের সামনে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। স্কয়ারের কাছে ভিড়তে যাওয়া জনসমাগম থামাতে পুলিশ ফাঁকা গুলি করছে।
দেশের সমস্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করে কাজাখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরলান তুরগুমবায়েভ বলেছেন, তারপরও দেশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাজাখ সরকার দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এশিয়ার তেল-সমৃদ্ধ দেশ কাজাখস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষেভের মুখে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভা সদস্যদের বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। গত বুধবার প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধানমন্ত্রী আসকার মামিনের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। তারপরও দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। বিক্ষোভ দমনে সেনাসদস্যদের গুলি চালাতে কোনো অনুমতি বা সতর্কবার্তার দরকার নেই বলে ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট কাসেম জোমার্ত তোকায়েভ। এরপর থেকে পরিস্থিতি আরো উত্তাল হয়ে ওঠে। কাজাখের পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে নেয় রুশ সেনারা। তারপরও বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে দেশটিতে।