পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ‘ঐক্য ও শক্তির প্রদর্শনী', বেইজিং কুচকাওয়াজে পুতিন ও কিম

অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হাইপারসনিক অস্ত্রও প্রদর্শন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে এই তিন নেতার জনসম্মুখে একত্র হওয়া বিশ্বরাজনীতিতে একটি শক্ত বার্তা বহন করবে। ৩ সেপ্টেম্বরের এই ’বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজ চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির একটি প্রদর্শনী হতে চলেছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ। সেখানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে এই তিন নেতার জনসম্মুখে একত্র হওয়া বিশ্বরাজনীতিতে একটি শক্ত বার্তা বহন করবে। ৩ সেপ্টেম্বরের এই ’বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজ চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির একটি প্রদর্শনী হতে চলেছে। এই উপলক্ষে তিন নেতা কেবল চীন এবং গ্লোবাল সাউথের মধ্যেই নয়, বরং নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও সংহতির এক বিশাল প্রদর্শনী করবেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৬টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এই অনুষ্ঠানটিতে যোগ দিচ্ছেন। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ছাড়া সেখানে পশ্চিমা কোনো নেতাই থাকছেন না।

ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ভারে জর্জরিত রাশিয়ার অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুতিন শেষবার চীন সফর করেছিলেন ২০২৪ সালে। অন্যদিকে ২০০৬ সাল থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম সর্বশেষ বেইজিং সফর করেছিলেন ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে।

জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের স্মরণে অনুষ্ঠিত এই ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজাশকিয়ান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের স্পিকার উ উন-শিক। এছাড়া সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচও থাকবেন অতিথিদের তালিকায়। জাতিসংঘের পক্ষে অংশ নেবেন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়া।

কুচকাওয়াজের দিন তিয়ানআনমেন স্কয়ারে লাখো সেনাকে পরিদর্শন করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ পরিকল্পনায় সাজানো এই অনুষ্ঠানকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সামরিক প্রদর্শনী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হাইপারসনিক অস্ত্রও প্রদর্শন করা হবে।

আরও