লিবিয়ায় গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম নিহত

২০২১ সালে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় আলোচনায় এসেছিলেন সাইফ আল-ইসলাম।

হামলাকারীরা বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দিয়ে সরাসরি তার ওপর গুলি চালায়। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি এক সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তার নিজ বাসভবনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান এই মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে চারজন মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দিয়ে সরাসরি তার ওপর গুলি চালায়। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় লিবিয়ার বিচার বিভাগ একটি জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন গাদ্দাফি শাসনের অন্যতম প্রধান মুখ। লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সাইফ একসময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি তার বাবার পক্ষ নিয়ে বিদ্রোহীদের দমনে কঠোর অবস্থান নেন। গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তিনি জিনতানে বন্দি হন এবং দীর্ঘদিন সেখানে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় আলোচনায় এসেছিলেন।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৪২ বছর লিবিয়া শাসন করেন। তার শাসনকাল যেমন উন্নয়ন ও লিবিয়ার আধুনিকায়নের জন্য পরিচিত, তেমনি রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও একনায়কতন্ত্রের জন্যও সমালোচিত। ২০১১ সালে 'আরব বসন্তের' প্রভাবে শুরু হওয়া ন্যাটো সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহের মুখে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ওই বছরের অক্টোবরে নিজ শহর সিরতেয় বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।

আরও