নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি ১,১৩০

৭ দিন পরও নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল

ইউএনডিপি জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে বন্যার পর প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। এতে ভবনের ধ্বংসাবশেষ, পাথর ও পলি রয়েছে। এর পরিমাণ ছয়টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান।

হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল। ভারী যন্ত্র, হেলিকপ্টার, ড্রোন, জীবন শনাক্তকারী যন্ত্র ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার হিসাবে, বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় চার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশে মোট প্রাণহানি ১১৩০ জনে পৌঁছেছে। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি উপত্যকায় হিমবাহ ধসে বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যায় একের পর এক গ্রাম ও অবকাঠামো। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রসুওয়া জেলা। অঞ্চলটির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ও স্থাপনায় শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকা থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি সুড়ঙ্গে ৪৬ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। সেখানে খাবার ও পানি থাকার কারণে এক সপ্তাহ পরও তাদের জীবিত থাকার বিষয়ে আশাবাদী উদ্ধারকারীরা। আপার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেও উদ্ধারকাজ চলছে। ঘন কাদায় প্রায় ছয়দিন পর সুড়ঙ্গের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভেতরে শুষ্ক জায়গা থাকার খবর পাওয়ায় সেখানে কেউ আটকা পড়ে থাকলে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার অভিযানে নেপালের পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হচ্ছেন।

বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-দশমাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চালু থাকা আটটি ও নির্মাণাধীন চারটি বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রায় ৫০টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি মেরামতযোগ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া ৩১টি যান চলাচলযোগ্য সেতু ভেসে গেছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

ইউএনডিপি জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে বন্যার পর প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। এতে ভবনের ধ্বংসাবশেষ, পাথর ও পলি রয়েছে। এর পরিমাণ ছয়টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান। জাতিসংঘের মতে, দুর্গত এলাকায় সহায়তা পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৪০টির বেশি সেতু ধ্বংস হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক গ্রামে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে। কোথাও এখনো জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে। নুওয়াকোট ও রসুওয়ার ২৭টি স্থানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ স্কুলে অবস্থান করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভিড়, দূষিত পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কারণে বর্ষার মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

আরও