আসিয়ানের বাইরে থেকে কর্মী সংগ্রহে উদ্যোগী জাপান; তালিকায় আছে বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান

নার্সিং, খাদ্য সেবা ও নির্মাণের মতো কর্মী-স্বল্প খাতে বিদেশী শ্রমিক আকর্ষণ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে জাপান। দেশটিতে কাজ করতে আগ্রহী তরুণদের ছয় মাস পর্যন্ত জাপানি ভাষার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকের পরীক্ষায় পাস করলে জাপানে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতি বছর প্রায় ২০০ জনকে রেস্তোরাঁ ও নার্সিং খাতে প্রশিক্ষণ দেবে জাপান।

জাপানে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় এবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দিকে নজর দিচ্ছে দেশটির সরকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ায় সেখানকার মানুষ বিদেশে কাজ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কর্মীর উৎস হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর দিকে তাকাচ্ছে জাপান। খবর নিক্কেই এশিয়া।

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হবে এসব দেশের কর্মী নিয়োগ সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। মূল লক্ষ্য হবে জাপানে শ্রমবাজারের চাহিদা বোঝা এবং কর্মী আসার ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বাধা রয়েছে তা পর্যালোচনা করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানকার তরুণেরা এখন আর আগের মতো বিদেশে গিয়ে খাটুনির কাজ করতে আগ্রহী নন। ফলে জাপানকে এখন নতুন উৎস খুঁজতেই হচ্ছে।

নার্সিং, খাদ্য সেবা ও নির্মাণের মতো কর্মী-স্বল্প খাতে বিদেশী শ্রমিক আকর্ষণ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে জাপান। দেশটির ওনোদেরা গ্রুপের উচ্চমানের সুশি রেস্তোরাঁয় প্রশিক্ষণ দেয়া ওনোদেরা ইউজার রান গত মাসে উজবেকিস্তানের মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সংস্থাটি জাপানে কাজ করতে আগ্রহী তরুণদের জন্য প্রোগ্রাম শুরু করবে, যেখানে তাদের ছয় মাস পর্যন্ত জাপানি ভাষার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকের পরীক্ষায় পাস করলে জাপানে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা প্রতি বছর প্রায় ২০০ জনকে রেস্তোরাঁ ও নার্সিং খাতে প্রশিক্ষণ দেবে।

জাপান-চীন-এশিয়া এডুকেশনাল মেডিকেল কালচারাল এক্সচেঞ্জ নামের একটি সংস্থা জাপানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিদেশী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে। তারাও এপ্রিলে উজবেকিস্তানে তিনটি জাপানি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র খুলেছে। চেইন রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠান ওয়াতামি বাংলাদেশে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। তাদের লক্ষ্য প্রতি বছর ৩ হাজার জনকে জাপানে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে পাঠানো।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে জাপানে তুলনামূলক কম শ্রমিক গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপানের টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিক প্রোগ্রামে ভারতের ১ হাজার ৪২৭ জন, শ্রীলংকার ৪ হাজার ৬২৩ জন এবং উজবেকিস্তানের ৩৪৬ জন নিবন্ধিত ছিল। তবে এসব দেশ থেকে শ্রমিকের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও