ঢাকা এখন জনসংখ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী, শীর্ষে জাকার্তা: জাতিসংঘ

এশিয়ায় রয়েছে এসব মেগাসিটির ১৯টি, এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০ নগরীর মধ্যে ৯টিই এশিয়ার।

জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ। এ তালিকায় প্রায় ৪ কোটি ১৯ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে শীর্ষে থাকা জাপানের রাজধানী টোকিও ৩ কোটি ৩৪ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।

জনসংখ্যার বিবেচনায় বিশ্বের বৃহত্তম নগরীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ। এ তালিকায় প্রায় ৪ কোটি ১৯ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে শীর্ষে থাকা জাপানের রাজধানী টোকিও ৩ কোটি ৩৪ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। খবর আল জাজিরা।

জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের আগের সর্বশেষ মূল্যায়নে জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম শহর ছিল টোকিও। তবে এ বছর এশিয়ায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তালিকার শীর্ষ তিনটি স্থানই দখল করেছে এ অঞ্চলের নগরীগুলো।

আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম নগরীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ঢাকার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এখানে বলা হয়েছে, বিশ্বের মেগাসিটি—অর্থাৎ ১ কোটির বেশি জনসংখ্যার নগরীর সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৩টিতে, যা ১৯৭৫ সালের তুলনায় চার গুণ। এশিয়ায় রয়েছে এসব মেগাসিটির ১৯টি, এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০ নগরীর মধ্যে ৯টিই এশিয়ার।

শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য এশীয় শহরগুলো হলো— নয়াদিল্লি (৩ কোটি ২ লাখ), সাংহাই (২ কোটি ৯৬ লাখ), গুয়াংজু (২ কোটি ৭৬ লাখ), ম্যানিলা (২ কোটি ৪৭ লাখ), কলকাতা (২ কোটি ২৫ লাখ), সিউল (২ কোটি ২৫ লাখ)।

এশিয়ার বাইরে একমাত্র শহর হিসেবে মিসরের রাজধানী কায়রো (৩ কোটি ২০ লাখ) শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে।

আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহর ব্রাজিলের সাও পাওলো (১ কোটি ৮৯ লাখ), আর সাব-সাহারান আফ্রিকায় দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া শহর নাইজেরিয়ার লাগোস।

ঢাকার মতো জাকার্তার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও অভিবাসনের পেছনে গ্রামীণ এলাকার জলবায়ুজনিত সমস্যা—যেমন প্লাবন, নদীভাঙন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জাকার্তা নিজেও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০৫০ সাল নাগাদ শহরটির এক-চতুর্থাংশ পানির নিচে চলে যেতে পারে—এমন শঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ কারণে দেশটি বোর্নিও দ্বীপে নতুন রাজধানী ‘নুসান্তারা’ নির্মাণ করছে। তবে প্রশাসনিক রাজধানী সরিয়ে নেয়া হলেও ২০৫০ সালে জাকার্তার জনসংখ্যা আরো ১ কোটি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে শহরটিকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে বৈষম্য, আয়-সমস্যা ও আবাসন সংকট। বছরের শুরুতে কম আয়ের শ্রমিক ও অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ার ডেলিভারি কর্মীদের আন্দোলন জনঅসন্তোষকে আরো স্পষ্ট করেছিল।

নতুন প্রতিবেদনে নগরায়ণের পরিমাপে দেশভেদে বৈষম্য দূর করতে শহরের নতুন সংজ্ঞা ব্যবহার করেছে জাতিসংঘ। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, ন্যূনতম ৫০ হাজার জনসংখ্যা এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন হলে সেটাকে নগরী ধরা হবে।

আরও