অস্ত্র রফতানিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় নীতি শিথিলের পথে জাপান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি সপ্তাহে অস্ত্র রফতানি বিধিনিষেধ শিথিলের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলের মধ্যেই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ হতে পারে। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা কঠোর শান্তিবাদী নীতি থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে জাপানে

প্রতিরক্ষা ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ইউক্রেন ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানের নতুন অস্ত্র রফতানি শিথিল নীতির প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। খবর রয়টার্স।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি সপ্তাহে অস্ত্র রফতানি বিধিনিষেধ শিথিলের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলের মধ্যেই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ হতে পারে। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা কঠোর শান্তিবাদী নীতি থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে জাপানে।

নতুন নীতি অনুসারে পোল্যান্ড, ফিলিপাইনসহ একাধিক দেশ জাপানের সম্ভাব্য অস্ত্র ক্রেতা হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ফিলিপাইন নৌবাহিনীর জন্য ব্যবহৃত যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে, যা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাপানের বড় কোম্পানিগুলোও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ শুরু করেছে। তোশিবা জানিয়েছে, আগামী তিন বছরে প্রায় ৫০০ নতুন কর্মী নিয়োগ দেবে তারা এবং নতুন পরীক্ষণ ও উৎপাদন সুবিধা নির্মাণ করছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা রফতানি ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন বিভাগ গঠন করেছে।

মিৎসুবিশি ইলেকট্রিকও বিদেশে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য নতুন নিয়োগ দিচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ড্রোন, ফাইটার জেটের যন্ত্রাংশ এবং বিদ্যুচ্চালিত যুদ্ধ প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাপানের সঙ্গে ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিতে সহযোগিতার মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মিত্র দেশ যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সময়ে, যখন জাপানে ধীরে ধীরে কঠোর অস্ত্র রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে বর্তমান সরকার সেই প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত ও বিস্তৃত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস তৈরি করতে চাইছে। একই সঙ্গে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।

আরও