জাপানের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হলেন কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ সানায়ে তাকাইচি। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম করলেন। খবর রয়টার্স।
শনিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৬৪ বছর বয়সী প্রাক্তন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী তাকাইচি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কৃষি মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিকে রানঅফ ভোটে পরাজিত করেন। পার্লামেন্টে এলডিপি বৃহত্তম দল হওয়ায়, এখন জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকেই বেছে নেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলডিপির সভাপতি পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রথম দফায় কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নির্বাচনটি দ্বিতীয় দফায় (রানঅফ) গড়ায়। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ১৮৩ ভোট পাওয়া তাকাইচি এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬৪ ভোট পাওয়া কোইজুমি।
রানঅফ ভোটে তাকাইচি তার প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির চেয়ে ২৯টি বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এ ধাপে তাকাইচি ১৮৫ ও কোইজুমি পান ১৫৬ ভোট। এ নিয়ে তৃতীয়বার দলের প্রধান হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অবশেষে জয়ী হলেন সানায়ে তাকাইচি।
তার এ বিজয় জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। আন্তর্জাতিক লিঙ্গ সমতার নিরিখে পিছিয়ে থাকা একটি দেশে তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
উগ্র-রক্ষণশীল মতাদর্শের জন্য পরিচিত তাকাইচি নিজেকে প্রয়াত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অনুরাগী হিসেবে পরিচয় দেন। দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর তিনি দ্রুত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেবেন।
সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারি এবং দুটি নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের কারণে দলের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার পরই সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বর্তমানে এলডিপি জোট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বৃহত্তম দল হওয়ায় মধ্য-অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় ভোটে তাকাইচিই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
তাকাইচি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে কঠোর সমালোচনা শুনেছি যে, এলডিপি কীসের প্রতিনিধিত্ব করে তা তারা জানে না। এই জরুরি পরিস্থিতিই আমাকে চালিত করেছে। আমি মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যতের উদ্বেগ দূর করে তাদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তুলতে চাই।‘