দক্ষ বিদেশী কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা এক লাখ ডলারের ফি বুধবার স্থগিত করেছেন দ্বিতীয় এক ফেডারেল বিচারক।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ডিস্ট্রিক্ট জজ হেইউড গিলিয়াম এ রায় দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের আরোপ করা ফি কার্যকরের আগে প্রয়োজনীয় বিধি অনুসরণ করেনি মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
রায়ে শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগদাতা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের আবেদন মঞ্জুর করেন সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ দেয়া বিচারক গিলিয়াম। জোটটির করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ট্রাম্পের আরোপ করা ফি কার্যকর থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে একই ফি জুন মাসে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন বস্টনের এক ফেডারেল বিচারক। ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক একটি মামলায় তিনি ওই আদেশ দেন। জুলাইয়ে বস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত ওই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
গত আগস্টে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। এটি চূড়ান্ত হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই ফি নিয়ে ভিন্ন আইনি প্রশ্ন উঠবে। কারণ ট্রাম্পের নির্ধারিত ফি নিয়ে করা মামলাগুলোয় মূলত প্রেসিডেন্ট এককভাবে এ ধরনের ফি নির্ধারণের ক্ষমতা রাখেন কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এক লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি এর মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়েছেন।
হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
মামলাকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী বামঘেঁষা আইনি সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড এক বিবৃতিতে আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেন, ‘আজকের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিয়েছে, যা রাতারাতি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী লবিং সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও এই ফি চ্যালেঞ্জ করে তৃতীয় একটি মামলা করেছে। ট্রাম্পের ফি নির্ধারণের কোনো ক্ষমতা ছিল না—এমন দাবি খারিজ করে দেয়া এক বিচারকের রায়ের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে।
এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশী কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ৬৫ হাজার ভিসা দেয়া হয়। এর বাইরে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কর্মীদের জন্য আরো ২০ হাজার ভিসা অনুমোদন করা হয়। এসব ভিসার মেয়াদ তিন থেকে ছয় বছর।
ট্রাম্পের আদেশে এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর আগে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এ ভিসার জন্য সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হতো।
ফি আরোপের সময় ট্রাম্প ফেডারেল অভিবাসন আইনে প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—এমন কিছু বিদেশী নাগরিকের প্রবেশ সীমিত করা যায়। ট্রাম্প বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করেছে এবং কম খরচের বিদেশী শ্রমিক দিয়ে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আরো কঠোর যাচাইয়ের নির্দেশও দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ভিসা বাছাই প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করেছে, যেখানে বেশি দক্ষতা ও বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।