প্রায় দুই শতক ধরে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বাকিংহাম প্যালেস। ১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসার পর থেকেই এটি ব্রিটিশ সম্রাটের প্রধান লন্ডন বাসভবন। কিন্তু সে দীর্ঘ ঐতিহ্যে এবার ইতি টানছেন রাজা তৃতীয় চার্লস।
বর্তমানে বাকিংহাম প্যালেসের সংস্কার কাজ চলছে। ১০ বছরব্যাপী চলা এ সংস্কারকাজ আগামী বছর শেষ হলেও প্যালেসে আর স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না তিনি। বরং নিজের বর্তমান বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউসেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ সম্রাটের আনুষ্ঠানিক সদর দফতর ও ব্যক্তিগত বাসভবন আলাদা হয়ে যাচ্ছে।
তবে এর অর্থ এ নয় যে, বাকিংহাম প্যালেসের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। রাজকোষের দায়িত্বে থাকা জেমস চালমার্স জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের সফর, রাজকীয় অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে প্রাসাদটি। তার ভাষায়, এটি এখনও রাজতন্ত্রের ‘হেডকোয়ার্টার্স’, জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক।
বাকিংহাম প্যালেস ছবি: রয়টার্স
২০১৭ সালে শুরু হওয়া ৩৬৯ মিলিয়ন পাউন্ডের সংস্কার প্রকল্পে পুরোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন ও তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। যদিও ২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস বা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেউই সেখানে রাত কাটাননি। সংস্কারের পরও চার্লসের জন্য ব্যক্তিগত কক্ষ সংরক্ষিত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রাসাদে প্রবেশের সুযোগও আরো বাড়ানো হবে। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ দর্শনার্থী বাকিংহাম প্যালেস পরিদর্শন করেন।
এদিকে একই সঙ্গে রাজা চার্লস প্রথমবারের মতো নিজের কর পরিশোধের তথ্যও প্রকাশ করেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন, যা তাকে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ করদাতাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ১৯৯৩ সাল থেকে রানি এলিজাবেথের মতো চার্লসও স্বেচ্ছায় আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর ও উত্তরাধিকার কর দিয়ে আসছেন।
চার্লস রাজা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর পরিশোধ করেছেন। অন্যদিকে প্রিন্স উইলিয়ামও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর দেয়ার তথ্য প্রকাশ করেছেন।
রাজপরিবারের এ আর্থিক স্বচ্ছতার উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তাদের সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। গত বছর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজপরিবারের মালিকানাধীন ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার ও ডাচি অব কর্নওয়াল থেকে সরকারি হাসপাতাল, সেনাবাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও ভাড়া নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে রাজতন্ত্র।
সমালোচকদের দাবি, কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলেও রাজপরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। তাদের মতে, যত নতুন তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, ততই নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।