গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় চাপে মুখে পড়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দেশটির সরকার ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো এর বিপক্ষে রয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশে গতকাল ডাকা দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল ইতালির অর্থনীতি। খবর এফটি।
ইতালির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ডাকা ধর্মঘট গণপরিবহন, বিদ্যালয়, রেলপথ ও বন্দর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। প্রতিবাদকারীরা ইসরায়েলের গাজা অভিযানের অবসান দাবি করেছেন। তবে ইতালি সরকার ধর্মঘটকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।
গতকাল রোমসহ বিভিন্ন শহরের লাখো মানুষ গাজার বাসিন্দাদের পক্ষে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। কিছু এলাকায় ছোট ছোট দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে। তুরিন শহরে প্রতিবাদকারীরা একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঢুকে পড়ে—ফলে অল্প সময়ের জন্য তা বন্ধ করে দিতে হয়। এছাড়া একটি সম্মেলনকেন্দ্রেও ভাঙচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা।
ধর্মঘট শুরুর আগে অনেকটা রসিকতার সুরে জর্জিয়া মেলোনি বলেছিলেন, বিপ্লব ও দীর্ঘ ছুটি একসঙ্গে যায় না। আমি এখনো বিশ্বাস করি—এতে ফিলিস্তিনি জনগণের কোনো উপকার হবে না। বরং ইতালীয় জনগণের জন্য অনেক কষ্ট বয়ে আনবে এ ধর্মঘট।’
ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে রয়েছে সাম্প্রতিক আলোচিত সুমুদ ফ্লোটিলা। গাজাগামী ৪৪টি জাহাজের মানবিক সাহায্যবাহী বহর আটক করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ওইসব বহরে থাকা কর্মীরাও গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিরোধী সংসদ সদস্যসহ ৪০ জন ইতালীয় রয়েছেন।
জর্জিয়া মেলোনি ওই নৌবহরকে ‘মিডিয়া নাটক’ বলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এ উদ্যোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি-পরিকল্পনার মাধ্যমে গাজা সংঘাতের অবসান প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করতে পারে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে ইতালিতে এটি দ্বিতীয় সাধারণ ধর্মঘট, যা জর্জিয়া মেলোনির জন্য এক কঠিন ভারসাম্য রক্ষার লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়। এর একদিকে রয়েছে গাজার দুর্দশা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ। অন্যদিকে ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক ট্রাম্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চাপ।