দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করুন, কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনিজুয়েলা থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল। এর বিনিময়ে তারা ভেনিজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসককে নিরাপত্তা সেবা দিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা চলবে না।

দ্রুত সমঝোতায় না এলে কিউবাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সমঝোতা চুক্তি না করলে দেশটিকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থের যে সরবরাহ ছিল, সেটিও বন্ধ হয়ে যাবে। খবর বিবিসি।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক মার্কিন অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর কিউবার ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলা কিউবার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় সরবরাহ করে আসছে বলে ধারণা করা হয়। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেলের এ নিয়মিত সরবরাহ আর থাকবে না।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনিজুয়েলা থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল। এর বিনিময়ে তারা ভেনিজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসককে নিরাপত্তা সেবা দিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা চলবে না। তিনি আরো বলেন, কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না— শূন্য। দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন চুক্তি করে।

তবে ট্রাম্প কী ধরনের চুক্তির কথা বলছেন কিংবা চুক্তি না হলে কিউবা ঠিক কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। একই পোস্টে তিনি মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে নিকোলাস মাদুরোকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সরবরাহ করে আসছিল কিউবা। দেশটির সরকারের দাবি, কারাকাসে চালানো ওই মার্কিন অভিযানে তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অধিকাংশ কিউবান নিহত হয়েছে। যারা বহু বছর ধরে ভেনিজুয়েলাকে জিম্মি করে রেখেছিল তাদের আর প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলার পাশে এখন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। আমরা তাদের সুরক্ষা দেব।

ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের বিষয়ে কিউবা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলায় নিহত ৩২ জন ‘সাহসী কিউবান যোদ্ধা’কে ‘সাম্রাজ্যবাদী পোশাকধারী সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে।

কিউবা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, কিউবা এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই পরিবর্তন সম্ভব।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে কিউবার নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা দেন। তিনি বলেন, কিউবা সরকারের অবস্থানে থাকলে আমি নিজেও গভীর উদ্বেগে থাকতাম।

রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করেন। যেখানে ইঙ্গিত দেয়া হয়—কিউবান বংশোদ্ভূত ফ্লোরিডার সাবেক সিনেটর মার্কো রুবিও ভবিষ্যতে কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। পোস্টটি শেয়ার করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‌আমার কাছে এটি ভালোই শোনাচ্ছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনিজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রভাব এরই মধ্যে কিউবায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে আরো তীব্র করে তুলেছে।

আরও