যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকায় বোমা হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রায় দুই বছরের যুদ্ধ অবসানে এবং ৭ অক্টোবরের অবশিষ্ট সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ট্রাম্পের দেয়া শান্তি পরিকল্পনার কিছু অংশ হামাস গ্রহণ করেছে বলে জানানোর পরই তিনি এই নির্দেশ দেন। খবর এপি।
হামাস জানিয়েছে, তারা জিম্মিদের মুক্তি দিতে এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। তবে পরিকল্পনার অন্যান্য দিক নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আরো আলোচনার প্রয়োজন। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, যার জন্য আরো আলোচনা প্রয়োজন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত, যা স্পষ্টতই জিম্মিদের মুক্তির ইঙ্গিত দেয়। তবে তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ইসরায়েল পূর্বনির্ধারিত নীতির ভিত্তিতে যুদ্ধ শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেখানে হামাসের সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যবধানের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
হামাসের বিবৃতিতে ট্রাম্প স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তারা একটি স্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত।‘ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘নিরাপদে ও দ্রুত জিম্মিদের বের করে আনার জন্য ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে! এই মুহূর্তে, এটি করা খুবই বিপজ্জনক। আমরা এরইমধ্যে বিশদ বিবরণ নিয়ে আলোচনা করছি।‘
শান্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত মূল মধ্যস্থতাকারী মিসর ও কাতার এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র সব পক্ষকে ‘এই সুযোগ কাজে লাগাতে’ আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি এখন নাগালের মধ্যে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হচ্ছে— অবশিষ্ট ৪৮ জিম্মির মুক্তি (যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা কর হচ্ছে), হামাসের ক্ষমতা ত্যাগ ও নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহার, শত শত ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, ট্রাম্প ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক প্রশাসনের অধীনে গাজা পরিচালনা।