শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের ডাক দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে এমন আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে বিরোধী দলগুলো সে ডাকে সাড়া দেয়নি। বরং প্রেসিডেন্টের ডাক প্রত্যাখ্যান করেছে দলগুলো। বর্তমান সরকার প্রধানরা চলমান সংকট মোকাবেলা করতে না পারায় তাদের পদত্যাগ চাইছেন বিরোধীরা।
গতকাল সোমবার সকালে এক বিবৃতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের ডাক দেন প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে। তার মিডিয়া অফিস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সময় এসেছে দেশের সব নাগরিক ও ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য এক হয়ে কাজ করার। জাতীয় প্রয়োজনেই ঐক্যের সরকার প্রয়োজন।
কিন্তু বামপন্থী পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (জেভিপি) ও সামাগি জনা বালাওয়েগা (এসজেবি) প্রেসিডেন্টের ডাক প্রত্যাখ্যান করে তাকে এবং সরকারে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তাদের ভাই চামাল ও বাসিল রাজাপাকসে দেশটির সংসদ সদস্য। মাহেন্দ্রর ছেলে নামালও দেশটির সংসদ সদস্য।
প্রেসিডেন্টের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এসজিবির প্রধান রঞ্জিত মাদুমা বান্দারা বলেন, দেশের মানুষ চায় সরকারে থাকা রাজাপাকসে পরিবারের সবাই যাতে চলে যায়। ২২৫ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টে এসজিবির সদস্য রয়েছেন ৫৪ জন। আমরা দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে কাজ করতে পারি না।
এর আগে রাজাপাকসের মন্ত্রিসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বাদে বাকি সবাই পদত্যাগ করেন। এ অবস্থায় সব দল থেকে মন্ত্রী পদ গ্রহণের আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন চার রাজনীতিক এবং তারা শপথও নেন।
ডেইলি মিরর জানিয়েছে, শ্রীলংকার অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাসিল রাজাপাকসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আলি সাবরি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জিএল পেইরিস। এছাড়া দীনেশ গুনবর্ধনে শিক্ষামন্ত্রী ও জনস্টন ফার্নান্দো মহাসড়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।