রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইলি বোরোজানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাস হওয়ায় ভেঙে পড়েছে বর্তমান জোট সরকার। আকস্মিক সরকার পতনে দেশটির মুদ্রা ‘লিউ’-এর মানে রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। সেইসঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
গতকাল মঙ্গলবার রোমানিয়ার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কের পর এ অনাস্থা ভোট সম্পন্ন হয়। এতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ২৮১ জন আইনপ্রণেতা, আর বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র চারটি। বোরোজানের নিজ দল মধ্য-ডানপন্থী ন্যাশনাল লিবারেল পার্টি (পিএনএল), জোট সঙ্গী সেভ রোমানিয়া ইউনিয়ন ও হাঙ্গেরীয় সংখ্যালঘু দল ইউডিএমআরের সদস্যরা ভোট বয়কট করেন।
এর আগে গত এপ্রিলের শেষ দিকে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (পিএসডি) চারদলীয় ক্ষমতাসীন জোট থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। পরে কট্টর ডানপন্থী বিরোধী দল ‘এইউআর’-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে।
মাত্র ১০ মাস আগে কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বোরোজানের লিবারেল পার্টি ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা। তবে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি এবং সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে দুই দলের মধ্যে ক্রমাগত সংঘাতের জেরে জোটটি ভেঙে যায়। যদিও জনমত জরিপে বোরোজান এখনো দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে টিকে আছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজেট ঘাটতিতে থাকা রোমানিয়ার অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনাস্থা ভোটের আগেই ইউরোর বিপরীতে রোমানিয়ার মুদ্রা লিউ-এর মান ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পতনের কারণে ইইউ থেকে প্রাপ্য প্রায় ১ হাজার কোটি ইউরোর পুনরুদ্ধার তহবিল এবং দেশটির সার্বভৌম ঋণের রেটিং সংকটে পড়তে পারে।
দেশটির পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালের আগে হওয়ার কথা নয়। রোমানিয়ার ইতিহাসে কখনো আগাম নির্বাচন হয়নি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটেও তার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোশর দান এখন নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বোরোজান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।