ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেছে ইরান। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো চলছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মহসেনি-এজেই। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। খবর আল জাজিরা।
তেহরানের রাজপথে বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া বোরুজারদ, আরসানজান এবং গিলান-এ-গার্বের মতো শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দিয়েছেন। দক্ষিণ শহর শিরাজ থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের দেয়া প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ব্যারিকেডে লেখা ছিল, ‘ক্ষুধার তাড়নায় আমাদের এই বিদ্রোহ।‘
প্রধান বিচারপতি মহসেনি-এজেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে ‘শত্রু পক্ষকে’ সহযোগিতা করবে, তাদের প্রতি কোনো প্রকার শিথিলতা দেখানো হবে না। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ দাঙ্গা করতে বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে রাস্তায় নামে, তবে তাদের আর কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। তারা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুদের হয়ে কাজ করছে।‘
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাগাড়ম্বরের প্রেক্ষিতে আগাম সামরিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। গত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সেনাবাহিনী এখন অনেক বেশি শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো আগ্রাসী শক্তির হাত আমরা কেটে দেব।‘
গত মাসের শেষের দিকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। মূলত ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ (প্রস্তুত) রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। একইভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ইরানের জনগণ সম্ভবত তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।
বিক্ষোভ দমাতে ইরান সরকার চাল, মাংস ও পাস্তার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভর্তুকি হিসেবে নাগরিকদের মাসে মাত্র ৭ ডলার করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারে এই সহায়তাকে নগণ্য মনে করছেন বিশ্লেষকরা।